কৃষি আইনের প্রতিটি ধারা নিয়ে হবে আলোচনা, কৃষক বনাম কেন্দ্র সংঘাতে নয়া মোড়
কেন্দ্রের পাঠানো প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে পরবর্তী আলোচনা থেকে সরে এসেছিলেন কৃষকরা। এরপরই বনধ, অনসন ধর্মঘট পালন করেন কৃষকরা। তবে এরই মাঝে কৃষক আইনের সমর্থনে কেন্দ্র বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে। এরপরই একটু লহেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে দিল্লি সীমানায় আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের উপর। এই আবহে এদিন ফের কেন্দ্রের পাঠানো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করবেন কৃষক নেতারা।

১০টি সংগঠন দিল্লিতে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে
প্রসঙ্গত, সোমবার উত্তরপ্রদেশ, কেরল, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্যের অন্তত ১০টি সংগঠন দিল্লিতে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের সঙ্গে। তারা নয়া কেন্দ্রীয় কৃষি আইনকে সমর্থন জানায়। এই ১০টি সংগঠনই অল ইন্ডিয়া কিষাণ কোঅর্ডিনেশন কমিটির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে হরিয়ানার ২৯জন কৃষক নেতাও তোমরের সঙ্গে দেখা করে আইনের পক্ষে সওয়াল করেন। এই পরিস্থিতিতে ক্রমেই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে আন্দোলনকারী কৃষকদের উপর।

তিনটি আইনের প্রতিটি ধারা নিয়ে আলোচনা
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী জানিয়েছেন, 'যেসব কৃষকরা কৃষি আইনটি বুঝতে পেরেছেন তাঁরা এই আইনকে সমর্থন জানিয়েছেন। যেই কৃষকরা আন্দোলন করছেন, তাদের কাছে আমার আবেদন, প্রয়োজনে তিনটি আইনের প্রতিটি ধারা নিয়ে আলোচনা করব আমরা।' এর আগে জট কাটাতে কৃষক নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে কেন্দ্রের। কোনও বৈঠকেই মেলেনি রফাসূত্র। উল্টে আন্দোলন তীব্র করেছেন কৃষকরা।

কেন্দ্রের লোকসান
এদিকে কৃষক নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসলেই তাদের সাফ কথা তিনটি আইনই প্রত্যাহার না করা হলে তারা কোওরকম আলোচনায় বসবে না। এদিকে এই আবরোধোর জেরে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কেন্দ্র। এদিন পাঞ্জাব সরকারকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে কৃষক অবরোধের জেরে প্রতিদিন টোল প্লাজাগুলিতে ৩ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে সরকারের।

কৃষকরা ফিরে যাবেন না
এদিকে কৃষক নেতা তথা ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের মুখপাত্র রাকেশ টিকায়ত বলেন, 'কৃষকরা ফিরে যাবেন না। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসব। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করতে চলেছি।' এদিকে টিকায়ত অভিযোগ করেন যে উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের নাকি গৃহবন্দি করা হচ্ছে যাতে তারা আন্দোলনে যোগ না দিতে পারেন।

কৃষকদের ক্ষমা প্রার্থনা
এদিকে আন্দোলনকারী ৪০টি সংগঠন এদিন একটি ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা রাখে। সেই বার্তায় বলা হয়, 'রাস্তা অবরোধ করে জনসাধারণকে কষ্ট দেওযা আমাদের অভিপ্রায় নয়। আমরা এখানে নিজেদের দাবির জন্যে বসে রয়েছি। তবে যদি আমাদের এই আন্দোলন যদি আপনাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে আমরা হাতজোড় করে আমপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।'

শীঘ্রই আলোচনার টেবিলে কৃষকরা
এদিকে এরই মধ্যে হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জেজেপি নেতা দুষ্মন্ত চৌতালা এদিন ফের দাবি করেন যে কৃষকরা খুব শীঘ্রই ফের আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেও দুষ্মন্ত দাবি করেছিলেন যে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সব সমস্যার নিরসন হয়ে যাবে। যার পরে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। তবে এই আবহেই সোমবার দেশজুড়ে অনসন পালন করেন বহু কৃষক।












Click it and Unblock the Notifications