চেক ভাঙানো নিয়ে আর চিন্তা নেই, কাল থেকেই বদলে যাচ্ছে ব্যাঙ্কের নিয়ম
অর্থের দরকার, হাতে চেক পেয়েছেন। কিন্তু চেক ভাঙিয়ে কবে টাকা পাওয়া যাবে? এই নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। কাল থেকেই বদল আসছে এই সংক্রান্ত নিয়মে।
এইচডিএফসি এবং আইসিআইসিআই-সহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্ক কাল থেকে একই দিনে চেক ক্লিয়ারিং পরিষেবা চালু করতে চলেছে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) দ্রুত ও নিরাপদ পেমেন্টের জন্য আপডেটেড সেটলমেন্ট কাঠামোর অধীনে এই পদক্ষেপ।
নতুন এই পদ্ধতির ফলে, ৪ অক্টোবর থেকে জমা দেওয়া চেকগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। উভয় ব্যাঙ্কই তাদের গ্রাহকদের পর্যাপ্ত ব্যালান্স রাখার এবং চেকের সমস্ত বিবরণ নির্ভুলভাবে পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চেক বাউন্স বা বিলম্ব এড়ানো যায়।
ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের সুরক্ষার উন্নতির জন্য পজিটিভ পে সিস্টেম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। এই ব্যবস্থায়, যাচাইকরণের জন্য চেকের গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ আগে থেকে জমা দিতে হয়। ৫০,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের চেক জমা দেওয়ার অন্তত ২৪ কার্যঘণ্টা আগে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, চেক নম্বর, তারিখ, পরিমাণ এবং প্রাপকের নাম ব্যাঙ্কে জানাতে হবে।
চেক জমা দেওয়ার সময় ব্যাঙ্ক এই বিবরণগুলি যাচাই করবে। যদি তথ্য মিলে যায়, তবে চেকটি ক্লিয়ার করা হবে; অন্যথায়, অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং ড্রয়ারকে আবার বিবরণ জমা দিতে হবে। গ্রাহকদের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক ইমেল ঠিকানায় চেকের বিবরণ পাঠাতে হবে। ব্যাঙ্ক প্রক্রিয়াকরণের আগে প্রাপ্তির একটি স্বীকৃতি বার্তা পাঠাবে।
বর্তমানে ব্যাঙ্কগুলিতে চেক ট্রাঙ্কেশন সিস্টেম (সিটিএস) ব্যবহার করা হয়, যা চেকের একটি ইলেকট্রনিক ছবি এবং এর বিবরণ ড্রয়ি ব্যাঙ্কে পাঠায়। এর ফলে চেকের শারীরিক স্থানান্তরের প্রয়োজন হয় না, তবে ড্রপ বক্স বা এটিএম-এ জমা দেওয়া হলে নিষ্পত্তি হতে সাধারণত দুই কার্যদিবস সময় লাগে।
এ ছাড়াও, আরবিআই ৫ লক্ষ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের জন্য পজিটিভ পে বাধ্যতামূলক করেছে, এবং ৫০,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের জন্য এটি দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। পজিটিভ পে-এর মাধ্যমে বৈধতা প্রাপ্ত চেকগুলো আরবিআই-এর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অধীনে সুরক্ষিত থাকে।
আরবিআই ঘোষণা করেছে যে, নিরবচ্ছিন্ন ক্লিয়ারিং এবং সেটলমেন্টের প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং দ্বিতীয় ধাপ ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে চালু হবে। গ্রাহকদের চেকের সমস্ত বিবরণ নির্ভুল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যাখ্যান এড়ানো যায়।
কথায় ও সংখ্যায় উল্লেখিত টাকার পরিমাণ অবশ্যই মিলতে হবে, তারিখ বৈধ হতে হবে, এবং প্রাপকের নাম বা পরিমাণে কোনও ওভাররাইটিং থাকা চলবে না। ড্রয়ারের স্বাক্ষরও ব্যাঙ্কের রেকর্ডের সঙ্গে মিলতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications