ধীর বিচার ব্যবস্থা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক ভাষায় আইন লেখার পক্ষে সওয়াল প্রধানমন্ত্রীর
দেশে ধীর বিচার ব্যবস্থার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
দেশের আইনি ব্যবস্থার জটিলতার কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর জন্য অনেকাংশ দায়ী করেন আইনের অস্পষ্টতা। পাশাপাশি তিনি বলেন, অনেকেই আইন বোঝেন না। সকলের আইন বোঝা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইন আঞ্চলিক ভাষাগুলোতেও লেখা উচিত। যাতে দরিদ্র মানুষরা বুঝতে পারেন।

আইনের ভাষা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন
গুজরাতের 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'-এর কাছে কেভাদিয়ার একতা নগরে দু'দিনের 'অল ইন্ডিয়া কনফারেন্স অফ ল মিনিস্টার অ্যান্ড ল সেক্রেটারি'-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, আইনের অস্পষ্টতার কারণে বিচারে অনেক সময় দেরি হচ্ছে। আইনগুলো আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। দরিদ্র মানুষেরা যাতে আইন বুঝতে পারে, সেই কারণে আঞ্চলিক ভাষায় আইন লেখা প্রয়োজন বলে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত আট বছরে তাঁর সরকার ১,৫০০টির বেশি পুরনো, অপ্রচলিত আইন বাতিল করে দিয়েছে। তারমধ্যে অনেক আইন ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে অব্যাহত ছিল।

বিচারের দেরি দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বিচার পেতে দেরি হয় অনেক ক্ষেত্রেই। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের বিচার বিভাগ এই সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। এটি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। লোক আদালতের মতো ব্যবস্থা হলে আদালতের ওপর চাপ কম পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আইনের ভাষা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না। আইনের ভাষা সহজ হলে, বিচার পেতে সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন।

আঞ্চলিক ভাষার ওপর জোর
অনেক দেশে যখন কোনও আইন তৈরি করা হয়, একটি আইনের ক্ষেত্রে দুটি উপায় বের করা হয়। আইনি ভাষায় লেখা হয় আইন। অন্য একটি হল সাধারণ মানুষ যাতে বুঝতে পারে, সেই ভাষায় আইন লেখা হয়। যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে আইন অনেক স্পষ্ট হয়। ভারতের বেশিরভাগ নাগরিকের কাছে আইন স্পষ্ট নয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আইনি ভাষা যাতে নাগরিকদের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তার জন্য আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারের প্রয়োজন। প্রতিটি রাজ্যকে এই বিষয়ে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে তাদের মাতৃভাষায় আইনের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিটি আইনের মেয়াদ নির্ধারন
এছাড়াও তিনি বলেন, যখন কোনও আইন তৈরি হবে, তখন তার মেয়াদ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আইনটি সংশোধন করা সম্ভব হবে। ভারতের সমস্যা হল বহু বছর ধরে একই আইন রয়ে গিয়েছে। যা অনেক সময় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ মামলার ডিজিটাল লাইব্রেরি আঞ্চলিক ভাষায় করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications