মোদী-মমতা সহ ১০ হাজার ভারতীয়কে নজরে রাখছে চিন! লাদাখ সংঘাতের আবহেই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয়র উপর চলছে চিনা নজরদারি। সেই তালিকায় রয়েছেন মোদী সরকারের ক্যাবিনেট সদস্য থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, বিরোধী দলনেতা সহ বহু ভিভিআইপি। শুধু তাই নয়, চিনা নজরদারি স্ক্যানারের নিচে রয়েছে দাগী ক্রিমিনালরাও। এরকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি।

সকল স্তরের মানুষের উপরই নজরদারি
রাজনৈতিক আঙিনা ছাড়াও চিনের নজরদারিতে রয়েছেন ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার গণমান্য ব্যক্তিরা, রয়েছেন বিজ্ঞান জগতের প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও। 'হাইব্রিড যুদ্ধ'-এর জন্যে বিশেষ ভাবে 'বিগ ডেটা' ব্যবহারের মাধ্যমেই এই নজরদারি চলছে বলে জানা গিয়েছে। চিনের শেনজেনে অবস্থিত ঝেনহুয়া নামক এক কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এই নজরদারি চলছে বলে জানা গিয়েছে। চিনে বসে বিদেশি 'টার্গেট' চিহ্নিত করাই এই কোম্পানির কাজ।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ থেকে সিডিএস, সবাই আছেন তালিকায়
এই 'টার্গেট লিস্টে' যেমন রয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তেমনই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অশোক গেহলট, অমরিন্দর সিং। ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে পীযূষ গোয়েল, বান পড়েননি কেউ। নজরদারি চলছে সিডিএস বিপিন রাওয়াত ছাড়াও ১৫ জন উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকের উপর। তাছাড়া বায়ুসেনা এবং নৌসেনা আধিকারিকদের উপর চলছে এই নজরদারি।

চিনা সেনা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কাজ
ঝেনহুয়ার দাবি, তারা চিনা সেনা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করে। এবং চিনা সেনার জন্যেই তারা তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্য প্রকাশ হতেই ভারতের বক্তব্য, তারা কোনও ভাবেই এই ঘটনায় অবাক বা বিচলিত নয়। ঝেনহুয়া আদতে বিগ ডেটা-র মাধ্যমে এই সব তথ্য সংগ্রহ করছে। তারপর সেটিকে ওভারসিজ কি ইনফর্মেশন ডেটাবেসের অধীনে সংরক্ষণ করছে।

অন্যান্য দেশের উপরও নজরদারি
অবশ্য শুধু যে ভারতের উপরই এই নজরদারি চলছে, তেমনটা নয়। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব চিনের এই নজরদারির শিকার। অ-সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেই অন্য দেশে আধিপত্য বিস্তার করা, বা সেদেশের ক্ষতি করা বা প্রভাব অর্জন করার লক্ষ্যেই এই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ চলছে বলে সূত্রের দাবি।

তথ্য চুরির দাবি নাকচ চিনা সরকারের
রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৮ সালেই তৈরি হয়েছে ঝেনহুয়া নামক এই সংস্থাটি। এর মধ্যেই চিনজুড়ে ২০টি প্রোসেসিং সেন্টার তৈরি করে ফেলেছে তারা। চিনা সেনা এবং চিনা সরকারকেও তারা নিজেদের ক্লায়েন্ট হিসাবে গণ্য করে। তবে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংস্থার ওয়েবসাইট আর কেউ দেখতে পারছে না। এদিকে দিল্লিতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের দাবি, চিনা সরকার কোনও দিনই এই সব সংস্থাগুলির থেকে তথ্য চায়নি বা ভবিষ্যতেও চাইবে না।

রাহুল গান্ধী-মনমোহনের উপরও চিনা নজরদারি
তবে একথা বললেও বিগত দুই বছর ধরে ভারতে ক্ষমতাশীন ব্যক্তিত্ব ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, লালু প্রসাদ যাবদ, সচিন তেন্ডুলকর, চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, নীতি আয়োগের সিইও অভিনব কান্ত, ভারত সরকারের মুখ্য সচিব পদে থাকা ২৩ জনের নাম এই নজরদারির তালিকায় রয়েছে।

হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশল
যে পরিসীমায় এই সংস্থা তথ্য পেয়েছে এবং তা সংগ্রহ করেছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে তারা হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশলগত দিক সম্পর্কে অত্যন্ত মনোযোগী। উক্ত ব্য়ক্তিদের তথ্য সসম্পর্কে যেভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, তার পরিধিতে রয়েছে সেই ব্যক্তিদের কাজ, তাদের পরিবার, তাদের চলন, নেতৃত্বের ভূমিকা, তাদের সংস্থাগুলি অমূল্য ডেটা যা অগণিত উপায়ে পরবর্তীতে ভারতের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা।

জাতীয় সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শতাধিক চিনা অ্যাপ ব্যান
জাতীয় সুরক্ষা ও ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য এৎ আগে শতাধিক চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে ভারতীয় সরকার। হ্যালো, টিকটক, পাবজির মতো জনপ্রিয় অ্যাপও এই তালিকায় রয়েছে৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্র এমন কিছু অ্যাপের উপরও নজর রাখছে যেগুলি সরাসরি চিনের না হলেও এগুলির উপর চিনের বিনিয়োগ রয়েছে৷

ভারতের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ
এই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক৷ সরকার জানিয়েছিল, এই অ্যাপগুলির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যগুলিকে এমন কিছু কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার পক্ষে ক্ষতিকারক৷ আর এই আবহে ঝেনহুয়ার এই খবরটি প্রকাশ পেতে সরকারের দাবিতেই ফের শিলমোহর পড়ল।












Click it and Unblock the Notifications