সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকা থেকে বাদ দুই! পঞ্জাবের নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখেই কি সিদ্ধান্ত, উঠছে প্রশ্ন
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে মাত্রাতিরিক্ত হট্টগোল, যার জেরে শীতকালীন অধিবেশনের (Winter session) শুরুতেই তৃণমূল, সিপিআই, কংগ্রেসের ১২ সাংসদকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড (suspend) করেছেন রাজ্যসভা চেয়ারম্যান। যা নিয়ে প্
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে মাত্রাতিরিক্ত হট্টগোল, যার জেরে শীতকালীন অধিবেশনের (Winter session) শুরুতেই তৃণমূল, সিপিআই, কংগ্রেসের ১২ সাংসদকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড (suspend) করেছেন রাজ্যসভা চেয়ারম্যান। যা নিয়ে প্রতিদিনই উত্তাল হচ্ছে সংসদ, বিশেষ করে রাজ্যসভা। তবে সেই শাস্তির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন পঞ্জাব থেকে কংগ্রেসের সাংসদ প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং। যা ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে।

একযাত্রায় পৃথক ফল
তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সামনে গিয়ে যাঁরা হইহট্টগোল করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং সঞ্জয় সিংও। কিন্তু সেই একই দোষে দোষী ১২ জনের নামের তালিকা যখন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান প্রকাশ করেন, তখন দেখা যায় সেখানে প্রতাপ সিং বাজওয়ার নাম নেই। তৃণমূলের শাস্তিপ্রাপ্ত সাংসদ দোলা সেন এব্যাপারে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এই কাজ করা হয়েছে। কেননা পঞ্জাবে বিরোধিতা তৈরি হোক তা সরকার চায়নি।

হিরো হওয়া আটকাতেই সিদ্ধান্ত
তৃণমূলের দোলা সেনের সঙ্গে এব্যাপারে একমত হয়ে বাজওয়া বলেছেন, তিনি তাঁর কাজে দুঃখিত নন। তিনি ওই কাজ আবারও করতে পারেন। তিনি জানেন কেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি তাঁকে এবং আপ-এর সঞ্জয় সিংকে সাসপেন্ড করা হত, তাহলে তারা পঞ্জাবে হিরো হয়ে যেতেন। বিজেপি তা চায় না বলেই তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সাংসদ।

পিছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত কারণ
তবে এই কারণ অস্বীকার করেছে রাজ্যসভার সেক্রেটারিয়েট। সেখানে তাদের তরফ থেকে প্রযুক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং সঞ্জয় সিং-এর ঘটনাটি ১০ অগাস্টের। কিন্তু ১২ সাংসদের ঘটনাটি ১১ অগাস্টের। বাজওয়া রুলবুক ছুড়ে ফেলেছিলেন কার্যবিবরণী শেষ হওয়ার পরে। তাই তা রাজ্যসভার সিসিটিভিতে ধরা পড়েনি।
রাজ্যসভা সেক্রেটারিয়েটের একটি সূত্র বলছে, বাজওয়া এবং সিং-এর ঘটনাটি ১০ অগাস্টের। সেদিন কিংবা তার পরেরদিন তাঁর নাম নোট করা উচিত ছিল। ১১ অগাস্টের ঘটনাটি তার পরের দিন অর্থাৎ শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন নোট করা হয়েছে। যে কারণে দুজনই ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন।

সাসপেন্ড করা হলেই ভোটের প্রচারে ব্যবহার করতে পারতেন
এক্ষেত্রে দুজনকে সাসপেন্ড করা হলে, তাঁরা তা পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ব্যবহার করতে পারতেন। কেননা প্রতাপ সিং বাজওয়া পঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে নির্বাচনে লড়াই করবেন বলে জানা গিয়েছে। যদি তাঁকে সাসপেন্ড করা হত তাহলে তিনি তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি নিয়ে সরব হওয়া পঞ্জাববাসীর কাছে হিরো হয়ে যেতেন। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক লাভও হতে পারত।
অন্যদিকে আপ যেহেতু পঞ্জাবে লড়াই করছে, তাদের ক্ষেত্রেও সাংসদকে সাসপেন্ড করতে তা প্রচারে বাড়তি রসদ জোগাত।












Click it and Unblock the Notifications