মমতার ‘ঘোড়া’ রাহুল-সোনিয়ার দরজায়, এবার কি বদলে যাবে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ
মমতার ‘ঘোড়া’ রাহুল-সোনিয়ার দরজায়, এবার কি বদলে যাবে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভোট কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বাংলায় খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বাংলায় বিজেপির সম্ভাবনাকে দুরমুশ করে মমতা বন্যোবনপাধ্যায় টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছিলেন সেই পিকেরই বদান্যতায়। এবার মমতার দলের ভোটকৌশলী কংগ্রেসে পাড়ি জমাতে চাইছেন। কংগ্রেসের পক্ষে কৌশলগিরি দেখিয়ে তিনি চাইছেন মোদী জমানার অবসান ঘটাতে।

কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন
একুশের নির্বাচনের পর থেকেই প্রশান্ত কিশোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি এবার অন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চান। কংগ্রেস যোগদানের কথা চলছিল বহুদিন। মাঝে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিনি সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝে-মধ্যেই তিনি আলোচনায় বলেছেন, একমাত্র কংগ্রেসই পারে বিজেপি শাসনের অবসান ঘটাতে। কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বিজেপি বিরোধিতার কংগ্রেস কোন পথে
পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর তিনি ফের সোনিয়া-রাহুল গান্ধীদের সংস্পর্শে এলেন। এবং দফায় দফায় বৈঠক করে বুঝিয়ে দিলেন কংগ্রেসের কোথায় গলদ। কীভাবে কংগ্রেস বিজেপি বিরোধিতার সুর তৈরি করবে, তা নিয়েও আলোচনা করলেন প্রশান্ত কিশোর। সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পিকের হাত ধরে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস
সোনিয়া গান্ধীর বাড়িতে গিয়ে রাহুলের উপস্থিতিতে প্রশান্ত কিশোর তাঁর প্রেজেন্টেশান দিয়েছেন। কংগ্রেসকে জয়ের সরণিতে ফেরাতে আট দফা সূত্র দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তা নিয়ে পর্যালোচনাও করা হয়েছে। আর তারপর ফের সোনিয়া গান্ধীর বাড়িতে প্রশান্ত কিশোরের হাজির হওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাহলে কি প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। তাঁর হাত ধরেই ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস?

জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে আসরে পিকে
রবিবার পর সোমবার সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের বৈঠক হয়। সেখানে আসন্ন নির্বাচনগুলিতে প্রশান্ত কিশোরের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে। কীভাবে বিজেপির বিরোধিতায় আওয়াজ তুলবে কংগ্রেস, তা নিয়ে আলোচনা হয় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে। মোট কথা দফায় দফায় সোনিয়া-রাহুলসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোড়ার কংগ্রেসি রাজনীতিতে প্রবেশে।

যে রাজ্যে কংগ্রেস দুর্বল, কী অঙ্ক প্রশান্ত কিশোরের
২০২৪-কে পাখির চোখ করেই কংগ্রেস এগোতে চাইছে। কী করে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ৩৫০-র উপরে আসন পাওয়া যায়, তা নিয়ে পিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কী হতে পারে কংগ্রেসের রণকৌশল, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন সোনিয়া-রাহুল-পিকেরা। প্রশান্ত কিশোর দাওয়াই দিয়েছেন, যে রাজ্যে কংগ্রেস দুর্বল, সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কৌশলগত জোট গড়তে হবে।

কংগ্রেসের একজন সৈনিক নাকি কৌশলীর দায়িত্বে পিকে
পিকে চাইছেন নিঃশর্তে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মোদী-বিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে। তবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কীভাবে পিকের এন্ট্রি হবে কংগ্রেসে। তিনি একজন কৌশলী হিসেবে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করবেন, নাকি তিনি কংগ্রেসের একজন সৈনিক হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ২০২৪-এর লড়াইয়ে সামিল হবেন। এখনও তিনি মমতার দলের ভোট কৌশলী। তাই মমতার দলের সঙ্গে কংগ্রেসের মেলবন্ধন তিনি কীভাবে ঘটান, তার দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সোনিয়া ও রাহুলের সঙ্গে দফায় দফায় পিকের বৈঠকে প্রশ্ন
প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকমাস ধরেই। ২০২১-এ বাংলার ভোটপর্ব মেটার পর থেকেই তাঁর কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে চর্চা চলছিল। তিনি অনেকবারই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু তা চূড়ান্ত হয়নি। এখন আবার প্রশান্ত কিশোরকে ঘনঘন দেখা যাচ্ছে সোনিয়ার বাসভবনে। সেখানে সোনিয়া ও রাহুলের সঙ্গে তিনি দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে এন্ট্রিতে বাধা হয়েছিলেন মমতা!
প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে এন্ট্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান। একুশের ভোট-পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্দ হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় ক্ষেত্রে লড়াই শুরু করে দিতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সমীকরণ বদলে যায়। কংগ্রেসকে আক্রমণের রাস্তা বেছে নেয় তৃণমূল। এমনকী কংগ্রেসকে ভেঙে ভিনরাজ্যে শক্তি বাড়ানোর খেলাও শুরু করে তৃণমূল। প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসের নিস্পৃহতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরামর্শ কংগ্রেসকে
কিন্তু বর্তমানে প্রশান্ত কিশোর ফের অবস্থান বদল করে কংগ্রেসকেই বেছে নিচ্ছেন জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্বে। তাই তিন কংগ্রেসকে কৌশলী সাহায্য দেওয়া ছাড়া নিঃশর্তে দলে যোগ দিতেও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের উত্থানের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে মোদী-বিরোধী অন্যতম প্রধান মুখ, একথা অনস্বীকার্য।

কংগ্রেসকে পরামর্শ কোথায় কোথায় জোটের সওয়াল পিকের
প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলায় কংগ্রেসকে লড়াই করতে হবে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে। কেননা বাংলায় তৃণমূল সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। তিনি সোনিয়া গান্ধীকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জোট গড়ে জাতীয় রাজনীতিতে চলার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-এনসিপির জোট, তামিলনাড়ুতে ডিএমকের সঙ্গে জোট করে লড়াইয়ের কথা বলেছেন প্রশান্ত কিশোর। তেমনই বিহার, ঝাড়খণ্ড বা অন্যান্য রাজ্যেও তিনি জোট গড়ে লড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কংগ্রেসকে একলা চলতে হবে যেসব রাজ্যে, পিকের পরামর্শ
প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছে ৫৪৩টির মধ্যে ৩৬৫ থেকে ৩৭০টি আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে লড়তে হবে। সে জন্য হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যে কংগ্রেসকে একা লড়াইয়ের পরামর্শ তিনি দিয়েছেন। প্রয়োজনে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যে ভোট পরবর্তী জোট সম্ভাবনা খোলা রাখার কথা বলেছেন প্রশান্ত কিশোর।

তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙছে, এবার পিকে করবেন মধ্যস্থতা
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী হারের পরে দেশে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোয়ায় প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই ভুলে গিয়েছে কংগ্রেস। তাই কংগ্রেসকে লড়াই শুরু করতে হবে সর্বাগ্রে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যেভাবে কংগ্রেসকে দুর্বল করার রাজনীতি শুরু করেছে, তার দাওয়াই কী হবে, সেটা স্পষ্ট হয়নি এখনও। তৃণমূল যদি কংগ্রেসকে ভাঙতে থাকে, তাহলে উভয়ের মধ্যে ঐক্য দৃঢ় হবে না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই হাঁটতে হবে বিজেপি বিরোধী জোটকে। তাই প্রশান্ত কিশোরকে দুই দলের মধ্যে সোপান তৈরির করার দায়িত্বও নিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications