প্রশান্ত কিশোরের 'স্লোগান' এবার বামশাসিত কেরলেও, মমতাকে সামনে রেখেই বাম বিরোধী প্রচার
প্রশান্ত কিশোরের 'স্লোগান' এবার বামশাসিত কেরলেও, মমতাকে সামনে রেখেই বাম বিরোধী প্রচার
তৃণমূলের (trinamool congress) লক্ষ্য শুধুমাত্র ত্রিপুরা কিংবা অসম, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র নয়, তাদের লক্ষ্য বামশাসিত কেরলও। ত্রিপুরা ও অসম ছাড়া যেরাজ্যগুলির নাম এখানে উল্লেথ করা হয়েছে, সেইসব রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অফিস খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের (prashant kishor) স্লোগানকে সঙ্গে করে কেরলে (kerala) গড়া হয়েছে নতুন রাজ্য কমিটি।

কল দিদি, সেভ ইন্ডিয়া, দিল্লি চলো
কেরলের বিভিন্ন জায়গায় হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে, লেখা হয়েছে কল দিদি, সেভ ইন্ডিয়া, দিল্লি চলো। যার অর্থ হল দিদিকে ডাকো, দেশ বাঁচাও, দিল্লি চলো। দিদিকে ডাকো কিংবা কল দিদি স্লোগানটি অনেকাংশেই প্রশান্ত কিশোরের দিদিকে বলোর সঙ্গে বিলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ফিরে আসার পিছনে দিদিকে বলো কর্মসূচি অনেকটাই সাহায্য করেছে।

ভিন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারে অভিষেক
পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তাঁর হাতে ভিন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্বও দেওয়া হয়। তারপর থেকে ত্রিপুরা-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে দলকে সক্রিয়া করা কিংবা সেখানকার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করাই নয়, তাঁরা সেইসব রাজ্যের মানুষকে পরিষেবা দিতে চান।

কেরলে সাংগঠনিক কাজে গতি
জানা গিয়েছে, জুন মাসে কেরল থেকে তৃণমূলের নেতারা কলকাতায় এসে বৈঠক করে গিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ পদাধিকারীর সঙ্গে। তারপরেই সাংগঠনিক কাজে গতি এসেছে। সেখানে সম্প্রতি সাংগঠনিক বৈঠকে ৫১ জনের রাজ্য কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এরপরের লক্ষ্য হল জেলা ও ব্লক স্তরের সংগঠন তৈরি করা। সব মিলিয়ে ১৪ টি জেলাতেই সংগঠন তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

কেরলেও দলবদল
ভোটের পর থেকে বাংলায় মূলত বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান হয়েছে। সম্প্রতি ত্রিপুরায় কংগ্রেস ভেঙে একাধিক নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কেরলেও দেখা গিয়েছে অনেকটা সেরকম চিত্র। এর্নাকুলামে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

মমতাকে সামনে রেখেই বাম বিরোধী প্রচার
কেরল তৃণমূলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বামেদের বিরুদ্ধে প্রচারে বাংলায় মমতার সরকারের জনমুখী কাজগুলি প্রচার করা হবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান করেছিলেন তাও সেখানকার প্রচারে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্য ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন
তৃণমূলের টার্গেট ২০২৪। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তেমনই টার্গেট তৃণমূলের। সেই মতোই চলছে কাজ। ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ কিংবা উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা-অসম নয় বিভিন্ন রাজ্যেই চলছে কাজ। এর মধ্যে রয়েছে কেরলও। তাই সেখানকার বিভিন্ন জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি আর নিজের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন কেরল তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি মনোজ শঙ্করেন্নালুর। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, যোগাযোগের যুগে তিনি প্রযুক্তিকে ব্যবহারের পক্ষপাতী। তাই তিনি প্রত্যেক হোর্ডিং-এ নিজের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তিন বছরের মধ্যে মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে। দিদিকে দিল্লি পৌঁছে দিতেই তাঁরা সেই কাজে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবেন।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল তৃণমূল
অনেকেই জানেন না, কেরলে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা আজকের নয়। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে তৃণমূল সেখানকার ৫ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস কেরলের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল। কিছু টেকনিক্যাল ভুলের কারণে ওইবছর প্রার্থীদের নির্দল হিসেবেই লড়াই করতে হয়। কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, কেরলেও তৃণমূলের সমর্থনের ভিত্তি রয়েছে, কেননা কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয়েরই আদর্শ অনেকটাই কাছাকাছি।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল তৃণমূল
অনেকেই জানেন না, কেরলে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা আজকের নয়। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে তৃণমূল সেখানকার ৫ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস কেরলের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল। কিছু টেকনিক্যাল ভুলের কারণে ওইবছর প্রার্থীদের নির্দল হিসেবেই লড়াই করতে হয়। কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, কেরলেও তৃণমূলের সমর্থনের ভিত্তি রয়েছে, কেননা কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয়েরই আদর্শ অনেকটাই কাছাকাছি।

অসমেও সংগঠনকে মজবুত করতে ছোটদলের নেতাকে প্রস্তাব
একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। এর মধ্যে রয়েছে অসম। সেখানকার বিজেপি বিরোধী বলে পরিচিত রাইজর দলের নেতা অখিল গগৈকে তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেরলের তৃণমূল নেতাদের মতোই অখিল গগৈ কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। তবে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।












Click it and Unblock the Notifications