মমতা কি আসন ছাড়বেন বাংলায়? নীতীশ কুমারের অবস্থা হবে চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো, কটাক্ষ প্রশান্ত কিশোরের
বিজেপির বিরুদ্ধে যে সময় বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নীতীশ কুমার এবং তেজস্বী যাদব, সেই সময় তাঁদেরকে নিশানা করলেন প্রশান্ত কিশোর। অন্যদিকে বিহারে জন সুরজ যাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগ চালাচ্ছেন এই ভোট কুশলী।
প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, নীতীশ কুমার এবং তেজস্বী যাদবের জন্য কোনও জায়গা নেই। এই লোকেরা কি কাউকে প্রধানমন্ত্রী করবে, প্রশ্ন করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি বলেছেন, ২০২৪-এর নির্বাচনের পরে নীতীশ কুমারের অবস্থা হবে চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো। অন্যদিকে তিনি বলেছেন, তেজস্বী যদি লালু যাদবের ছেলে না হতেন, তাহলে নিজের যোগ্যতায় কোনও চাকরিই পেতেন না।

তিনি বলেছেন, নীতীশ কুমারের উচিত বিহার নিয়ে চিন্তা করা। যাদের নিজের ঠিকানার ঠিক নেই, তারা সারা দেশের দলকে একত্রিত করতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, নীতীশ কুমার যে কলকাতায় গিয়েছিলেন, তাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের প্রতি সুর নরম করবেন, নাকি নীতীশ-তেজস্বীকে আসন ছাড়বেন? মমতাকে তাঁর মতো কেউ জানেন না, বলেন পিকে।
প্রশান্ত কিশোর এমন একটা সময়ে নীতীশ কুমার এবং তেজস্বী যাদবকে আক্রমণ করলেন, যে সময় তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একত্রিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রসঙ্গত নীতীশ এবং তেজস্বী সাম্প্রতিক সময়ে লখনৌতে এসপির অখিলেশ যাদব, কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

পিকে যে চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে নীতীশ কুমারের তুলনা করেছেন তার পিছনে কারণও রয়েছে। কয়েক বছর পিছনে গেলে দেখা যাবে ২০১৯ সালে চন্দ্রবাবু নাইডু বিজেপির বিরুদ্ধে তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কংগ্রেসকে ছাড়াই নতুন ফ্রন্ট তৈরি করতে তিনি বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে আঞ্চলিক দলগুলির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
চন্দ্রবাবু নাইডু বিরোধী দলগুলির সামনে ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে অঞ্চলিক দলগুলির সাফল্যের কথা তুলে ধরতে চাইলেও, ২০১৯-এর নির্বাচনের পরে দেখা যায় বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে চন্দ্রবাবু নাইডুর দল মাত্র ২৩ টি আসন পায় আর লোকসভায় তাঁর দল মাত্র ৩ টি আসন পায়। রাজ্যে ক্ষমতা দখল করে ওয়াইএসআর কংগ্রেস।

জন সুরজ যাত্রায় থাকা প্রশান্ত কিশোরের নিশানায় রয়েছে বিজেপিও। তিনি বলেছেন, বিহারের বিজেপির অবস্থা ফাঁসির মতো। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, বিহারের নীতীশের হাতে বিহারের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দিয়েছিল। এর আগে অবশ্য প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, জঙ্গলরাজের ভয়ে লালু যাদবের আরজেডিকে না দিয়ে সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications