বিজেপিকে পরাজিত করা যাবে না, যদি না...! বিরোধীদের পরামর্শ ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের
২০২৪ এগিয়ে আসছে। আরও একটা মহাসংগ্রাম সামনে। কিন্তু বিজেপির মতো মহাশক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিরোধীরা একজোট নয়। বিরোধীদের মধ্যে কোনও সঙ্ঘবদ্ধতাই নেই। এই অবস্থায় বিরোধীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর।

বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য কোনো কাজ করবে না!
প্রশান্ত কিশোর বলেন, ২০২৪-এও বিজেপিকে পরাজিত করা কঠিন। কেন কঠিন তাও ব্যাখ্যা করেন ভোট কৌশলী। তিনি বলেন, শুধুমাত্র দল বা নেতাদের একত্রিত করে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। দরকার একটা মুখের, যাকে ঘিরে বিরোধীরা সবাই আবর্তিত হবেন, সেটারই অভাব। তাই তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ২০২৪ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য কোনো কাজ করবে না।

বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করতে বিজেপির শক্তিগুলি বুঝতে হবে
রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। তিনি বলেন, "আপনি যদি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করতে চান, তবে আপনাকে বিজেপির শক্তিগুলি বুঝতে হবে। সেইমতো আপনাকে লড়াই করতে। বিজেপির শক্তি হল- হিন্দুত্ব, জাতীয়তাবাদ এবং বিকাশ বা উন্নয়ন।

বিজেপির বিরুদ্ধে অন্য মতাদর্শের একটি জোট গড়তে হবে
তিন স্তরের স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বিজেপি। আপনি যদি এই তিনটি স্তরের মধ্যে অন্তত দুটি লঙ্ঘন করতে না পারেন, তবে আপনি চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না। এক সাক্ষাৎকারে প্রসান্ত কিশোর বলেন, "হিন্দুত্ব মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অন্য মতাদর্শের একটি জোট থাকতে হবে।"

বিরোধী জোট মানে দল বা নেতাদের একত্রিত হওয়া নয়
তিনি বলেন, "গান্ধীবাদী, আম্বেদকরবাদী, সমাজবাদী, কমিউনিস্ট- এই সব মতাদর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আদর্শের ভিত্তিতে আপনি অন্ধ বিশ্বাস রাখতে পারেন না এই মতাদর্শের উপর।" তাঁর কথায়, সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা বিরোধী জোটকে দল বা নেতাদের একত্রিত হওয়ার বিষয়ে দেখছেন।

যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি আদর্শিক জোটবদ্ধতা তৈরি হবে...
প্রশান্ত কিশোর বলেন, "কে কার সাথে দুপুরের খাবার খেল, কাকে চায়ের আমন্ত্রণ জানাল, তা ফ্যাক্টর নয়। আদর্শ গঠনের দিক থেকে জোট গড়তে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি আদর্শিক জোটবদ্ধতা তৈরি হবে, ততক্ষণ বিজেপিকে পরাজিত করার কোনো উপায় নেই।"

গান্ধীর কংগ্রেসের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা
এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "তাঁর নিজস্ব আদর্শ হল মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ। বিহারের জন সুরজ যাত্রা হল গান্ধীর কংগ্রেসের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা। উল্লেখ্য, জন সুরজ যাত্রায় বিহার পরিভ্রমণে তিনি জোর দিয়েছিলেন কেবলমাত্র রাজ্যকে বোঝার। তিনি এই যাত্রাকে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করার প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেন।

আমার লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের পুনর্জন্ম, আর গান্ধীদের...
কংগ্রেসকে পুনরুত্থানের পরিকল্পনা প্রস্তুতের প্রস্তাব দেওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে গান্ধীদের দূরত্ব বেড়েছে। তিনি বলেন, "আমার লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের পুনর্জন্ম। আর কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনে জয়লাভ করা। তাঁরা যেভাবে চেয়েছিলেন, আমি তাতে একমত হইনি।" রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, আসল পরীক্ষা হবে মাটিতে। তখনই বোঝা যাবে দেশব্যাপী পদযাত্রার প্রভাব কতটা পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications