সেনার বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ৪০ জনের! কী ঘটেছিল সেদিন বৈসরণে, শুনুন কর্ণাটকের ব্যক্তির অভিজ্ঞতা
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে রয়েছে দেশবাসী। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন পর্যটক । আহত অনেকেই। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী। এই সময়েই অর্থাৎ মার্চ, এপ্রিল মাসেই কাশ্মীর ঘুরতে যাবার সব থেকে আদর্শ মাস। আর এই সময় কাশ্মীরে ঘুরতে গেছেন বহু পর্যটক।
২২শে এপ্রিল বৈসরণ ভ্যালিতে যখন সকল পর্যটক সেখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ব্যস্ত ও সেখানকার ছবি, ভিডিও করে নিজেদের কাছে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। ঠিক সে সময়েই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ যায় বহু কাছের মানুষের। কেউবা ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছেন। তাদের অনেকেই কিন্তু ভয়াবহ ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

এরকমই একজন পর্যটক যিনি বৈসরণ ভ্যালিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। নাম প্রসন্ন কুমার ভাট। যিনি কর্ণাটকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। যা শুনে শিউরে ওঠার মতন অবস্থা সকলের!
তিনি তার পরিবার নিয়ে সেখানে ঘুরতে গেছিলেন। তিনি বলেন, তার ভাই একজন সেনা কর্মকর্তা। তার জন্যই সেদিন ৩৫ থেকে ৪০ জনের জীবন বেঁচে গেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এই বিশেষ দিনে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন ২২ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পহেলগাঁওতে পৌঁছন। ১ টা ৩৫ মিনিটের দিকে পৌঁছানোর জন্য একটি ঘোড়ায় চড়ে যান।
তিনি বলেন, আমরা অন্য সবার মতন মেনগেট দিয়েই প্রবেশ করলাম। বাঁ পাশে ক্যাফে রয়েছে, সেখানেও চা খাওয়ার জন্য বসলাম। চা খেতে খেতে সেখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম। ঠিক দুপুর দুটোর দিকে পরিবার ও আমি সিদ্ধান্তনি, যে আমরা এবার ঘুরবো এবং কিছু ছবি তুলব। যেমন ভাবা তেমন কাজ।
ঘড়িতে তখন ২ টো ২৫ মিনিট। তখনই আমরা দুটি বন্দুকেরগুলির আওয়াজ শুনতে পাই। আর এক মিনিটের মধ্যে নেমে এলো যেন নীরবতা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারিধার যেন রক্তাক্ত হতে শুরু করল। সেই সময়ে অনেক বাচ্চারাই চারিধারে খেলছিল। সবাই সবার মতন করে এখানকার মনোরম শোভা উপভোগ করছেন।
সে সময় সৌন্দর্য রক্তের লাল রঙে ভাসছিল। কি হয়েছিল সেদিন? তিনি বলেন, প্রথম সকলেই কিন্তু একে-৪৭ এর বিকট আওয়াজ শুনে ছিল। তাই আমি আর আমার পরিবার সকলেই টয়লেটের পিছনে লুকিয়ে পড়বার জন্য ছুটে যাই। তখন আমি দেখতে পাই মাটিতে দুটো মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। আমি ও আমার ভাই বুঝতে পারি যে এটা একটা জঙ্গি হামলা। চারিধারে সকলেই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে, দৌড়াচ্ছে। আর তার প্রিয়জনকে হারানোর জন্য হাহাকার করছে।
তিনি বলেন, বৈসরণ ভ্যালিতে পালানোর মতন কোনও জায়গা নেই। পুরো তৃণভূমি এলাকাতেই বেড়া দিয়ে ঘেরা। আর তাই বেশিরভাগ পর্যটকই কিন্তু গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর সেখানেই অপেক্ষা করছিল জঙ্গিরা। যেমন ভেড়ার দিকে বাঘেরা ছুটে যায়, ওরাও যেন আমাদের দিকে তেমন ভাবেই ছুটে আসছিল। সেই কারণেই আমরা সেই পথ না ধরে অন্যদিকে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। আর ভাগ্যক্রমে আমরা শুরু একটা রাস্তাও খুঁজে পাই। অন্য অনেক পর্যটক বেড়া ভেদ করেও তার বিপরীত দিকে দৌড়াতে শুরু করে। সেই সরু রাস্তা দিয়ে আমরাও দৌড়াই। সেই রাস্তায় আমাদের দেখে অনেকেই কিন্তু আসতে শুরু করেন।
আমার ভাই একজন সেনা কর্মী, তাই তিনি এই পরিস্থিতিটা বুঝতে পারেন এবং আমাদের সকলকেই সেই পথ দিয়ে যাবার জন্য বলতে থাকেন । বিপরীত পথেই আমাদের যাবার জন্য তিনি বলেন। আর যে কারণে ৩৫ থেকে ৪০ জন ব্যক্তিও কিন্তু সেই পথে আমাদের দেখে সেদিকেই ছুটতে শুরু করেন।
ভাই আতঙ্কিত সবাইকে নিচের দিকে নামতে বলেন। সামনেই ঢাল ছিল, বইছিল। ফলে আমরা নিচের দিকে নামছিলাম। যাতে জঙ্গিদের সরাসরি দৃষ্টি থেকে আমরা সরতে পারি। সেই জন্যই আমরা নিচের দিকে নামছিলাম। এই জায়গাটি প্রচন্ড কাদা ছিল আর পিচ্ছিল ছিল। যদি ওই কাদায় অনেকেই পিছলে পড়ে যাযন। তবুও তারা তাদের জীবন বাঁচাতে পারেন।
তিনি আরও বলেন শিশু, প্রবীণ নাগরিক থেকে অনেক পর্যটকই ছিল যারা এভাবে তাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। সে সময় খুব অসহায় বোধ করছিলাম। সকলে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আর আমরা সে সময় ভয়ে, হতাশ হয়ে ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা এক ঘন্টা ধরে গর্তে বসে ছিলাম। তা আমরা ভাবছিলাম এখানেই থাকবো না আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করব।
Yet another survival story from the tainted Baisaran valley in Pahalgam. We survived the horror to tell the story of what can only be described as monstrous act and paint the heavenly beauty blood-red with hellfire.
— Prasanna Kumar Bhat (@prasannabhat38) April 25, 2025
By the grace of the God, luck, and some quick thinking from… pic.twitter.com/00ln2y0DJo
তারপর আমরা ৩ টে ৪০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারের আওয়াজ শুনতে পাই। তিনি আরও বলেন, ৪ নাগাদ সেনাবাহিনীদেরও দেখতে পাই। তারপর আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। তারাও আমাদের দেখতে পেয়েছেন। তারা বুঝতে পারেন আমরা পর্যটক। সেনাবাহিনীর কাছে আমরা সুরক্ষিত। আর এই পাহাড় বেয়ে যখন নামছিলাম তারপরে না বারবার বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা নিরাপদে রয়েছি।
দু’ ঘন্টায় ঘটে যাওয়া ঘটনা আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বন্দুকের গুলির শব্দ যেন এখনো আমার কানে এখনও বাজছে। এর এই আতঙ্কের কথা স্মরণ করলে এখনও আমার পেটে ব্যথা হয়। এই কাশ্মীরের সৌন্দর্যের আড়ালে যে কি স্মৃতি ভয়াবহ তা কোনদিনও মুছে ফেলা যাবে না।
তিনি বলেন, আমার ভাই এবং ঊর্ধ্বতন সেনাপতি ও সমগ্র সেনাবাহিনীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইল। যাদের কারণে এই ঘটনাটি থেকে আমি বাঁচতে পেরেছি এবং আমার পরিবার নিয়ে আজ আমি ফিরে এসেছি। তিনি বলেন, আমি ও আমার পরিবার সকলের নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছি। তবে এই জঙ্গি হামলার সাক্ষী যেন কাউকে আর কোনদিনও না থাকতে হয়।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications