২০২২ এর নির্বাচনের ফলাফলই চব্বিশের চূড়ান্ত ফলাফল নয়, মত প্রশান্ত কিশোরের
২০২২ এর নির্বাচনের ফলাফলই চব্বিশের চূড়ান্ত ফলাফল নয়, মত প্রশান্ত কিশোরের
২০২২ এ দুরন্ত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে দারুণ ফলাফল করেছে বিজেপি। সেমিফাইনাল জিতে অনেকেই বলছেন ২০২৪ নির্বাচন বিজেপিই আসবে ক্ষমতায়। এমনকি বিজেপি সেই ফলাফল হবে ভেবেই ঘুঁটি আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। এদিকে বিরোধী কংগ্রেসের অবস্থা খুব খারাপ। নামতে নামতে শেষে পাঞ্জাবের আসনটিও তারা খুইয়েছে।

বসপার সঙ্গে একযোগে প্রায় উত্তরপ্রদেশ থেকে তাদেরও বিদায় ঘটেছে ১০০ বছরের পুরনো দলের। প্রতিপক্ষ বলতে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল গোয়ায় কাজ করেনি। উল্টে তাদের জোট মহারাষ্ট্র গোমন্তক আচমকা বিজেপির হাত ধরে পালিয়েছে। মণিপুরেও একই হাল তৃণমূল কংগ্রেসের। আর ভালো ফল বলতে আপের।
কিন্তু দুই রাজ্যের ফলাফল দিয়ে কী সারা দেশের ফলাফলকে পুরো পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব আগামী দুই বছরে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিরোধীদের একসঙ্গে জোট হয়ে শক্ত হয়ে লড়লে কিছু হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে এটাও তারা বলছেন কংগ্রেসকে অন্য কারও হাত ধরা ছাড়া উপায় নেই বলে জানাচ্ছে।
তাহলে ২০২৪এ ভবিতব্য কী এখনই লেখা হয়েই গেল? রাজনৈতিক কৌশলী তা মানতে রাজি নন। তিনি বিজেপির সঙ্গেও কাজ করেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গেও কাজ করেছেম। কাজ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে দুই বছর অনেকটা সময়। পাশা পালটে গেলেও যেতে পারে, কোনও কিছুই স্থায়ি নয়, এখন থেকেই সব ফল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে তা মানতে তিনি রাজি নন।
রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে রাজ্য নির্বাচনগুলি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে না। প্রশান্ত কিশোর বলেন, "তিনি অন্য কারও চেয়ে বেশি জানেন যে রাজ্য নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।" তিনি যোগ করেছেন, "এমনকি যদি আমরা ইউপির উদাহরণ দিয়ে যাই, আপনি ২০১২ এর দিকে তাকান এবং কী হয়েছিল, এসপি ইউপিকে সুইপ করেছিল এবং বিজেপি ছিল চার নম্বর দল৷ ২০১৪ সালে কী হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে যা ঘটেছিল তা উদ্ধৃত করেছেন। একজন সর্বদা ২০০২ এর পরের উদ্ধৃতি দিতে পারে এবং ইউপি কখনই লোকসভায় ভোট দেয়নি যেভাবে তারা বিধানসভায় ভোট দেয়।"
চারটি রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপি যে ভালো ফলাফল করেছে তা উল্লেখ করে প্রশান্ত কিশোর ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, "এটি একটি টুর্নামেন্টের মতো যেখানে আপনি লীগ ম্যাচে জয় পেয়েছেন। অবশ্যই, আপনি যদি ফাইনালে গিয়ে একই দলের মুখোমুখি হন, আপনি অনুভব করতে পারেন এবং ধারাভাষ্যকাররা বলতে পারেন যে আপনি একটি সুবিধা পেয়েছেন কারণ আপনি লিগ ম্যাচে দলকে পরাজিত করেছেন।কিন্তু এটা কি গ্যারান্টি যে আপনি সেই দলকে পরাজিত করবেন?"
তিনি বলেছেন, "আমি ২০১২ সালে নরেন্দ্র মোদীর সাথে কাজ করছিলাম এবং আমরা দেখিনি যে আমরা উইংয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যদিও এখন সবাই বিশ্বাস করে যেন সবাই ২০১১-১২সালে জানত যে তিনি ভারত জিততে চলেছেন," তিনি ২০১৪ সালের মতোই কোনও বিরোধী নেতা শাসক দল বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে অপেক্ষা করছেন কিনা সে সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন।তিনি যোগ করেছেন, "২০১২ সালের মার্চ মাসে, ব্যস্ততা, আমি আপনাকে প্রথম হাতের তথ্য হিসাবে বলতে পারি, গুজরাট নির্বাচন যে তিনি অক্টোবরে মুখোমুখি হবেন; এটি ইউপি সম্পর্কে ছিল না। "প্রধানমন্ত্রী মোদী যা করার চেষ্টা করছেন, যে কেউ করবেন। তিনি সিদ্ধান্তমূলকভাবে জিতেছেন এবং তিনি অবশ্যই এটি গণনা করতে চান তবে দুই বছর রাজনীতিতে অনেক দীর্ঘ সময়"। এমনটাই বলেছেন প্রশান্ত কিশোর।












Click it and Unblock the Notifications