রামমোহনকে ব্রিটিশের দালাল বলার বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি, তৃণমূলের ক্ষোভের মাঝে ক্ষমা চাইলেন বিজেপি মন্ত্রী
ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়কে ব্রিটিশদের দালাল বলে কটাক্ষ করে প্রবল বিতর্কে জড়ালেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ইন্দর সিং পরমার। বিরসা মুন্ডা জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তব্য মুহূর্তে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষত বাংলায়, যেখানে রামমোহনের প্রতি আবেগ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই প্রেক্ষাপটেই গভীর, সেখানে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের তীব্র প্রতিবাদ: বাংলার মনীষীকে অপমান করলে রেয়াত নয়' পরমারের মন্তব্য সামনে আসতেই তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন "আমার রাম রামমোহন, আমার ঈশ্বর বিদ্যাসাগর, আমার ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ। তুই আমাদের দেবতাদের অসম্মান করিস, তুই বিজেপি।"

পরে সংবাদমাধ্যমের সামনেও একই ক্ষোভ উগরে দিয়ে অরূপ বলেন, "যারা আসল ব্রিটিশের দালাল, তারাই আজ রাজা রামমোহন রায়কে দালাল বলছে। বাংলার মাটি, বাংলার মনীষী এগুলো বিজেপি বোঝে না বলেই বারবার এমন অপমান করে।"
তৃণমূলের দাবি, রামমোহনের মতো ঐতিহাসিক সমাজ সংস্কারকের বিরুদ্ধেই বিষোদগার করে বিজেপি বাংলার আত্মসম্মানকে আঘাত দিচ্ছে। ভোটের আগে এটিকে রাজনৈতিক 'বহিরাগত মানসিকতার' প্রতিফলন বলেও ব্যাখ্যা করছে শাসকদল।
বিতর্কের পর দলও দূরত্ব রাখল, চাপে পড়ে ক্ষমা চাইলেন পরমার। রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই মধ্যপ্রদেশ বিজেপি দ্রুত পরমারের মন্তব্যকে 'ব্যক্তিগত মত' বলে দূরত্ব তৈরি করে। দলের মুখপাত্র শিবম শুক্লা জানান
"বিজেপি দেশের সকল মহান নেতাকে শ্রদ্ধা করে। মন্ত্রীর বক্তব্য দলের অবস্থান নয়।"
তবে সমালোচনা থামেনি। অবশেষে রবিবার এক ভিডিও বার্তায় ইন্দর সিং পরমার নিজের অবস্থান বদলে নেন ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
তিনি বলেন "রাজা রামমোহন রায় এক মহান সমাজ সংস্কারক। তাঁকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। মন্তব্যটি মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমি দুঃখিত।"
রামমোহনের ঐতিহ্য ও সম্মান আবারও রাজনৈতিক ইস্যু
১৮ শতকের শেষে জন্ম নেওয়া রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ, আধুনিক শিক্ষা বিস্তার, উদার সমাজচিন্তা এসবের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজকে নতুন দিশা দিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেই 'ব্রিটিশের দালাল' তকমা স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় আবেগ ও রাজনীতিকে উত্তাল করে তুলেছে।
পরমার ক্ষমা চাইলেও তৃণমূল জানিয়ে দিয়েছে
বাংলার মনীষীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আরও জোরাল হবে।
দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক দেখিয়ে দিল ইতিহাসের মূল্যায়ন ও বাংলা সংস্কৃতির সম্মান এখনও যে ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, তা আবারও প্রকাশ্যে এল।












Click it and Unblock the Notifications