উধমপুরে পরপর বিস্ফোরণে ধৃতদের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য! জম্মু-কাশ্মীরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রমাণ
গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর আটঘন্টার ব্যবধানে উধমপুরে পরপর দুই বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেখানে কারও মৃত্যু না হলেও, গোয়েন্দা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই শীতের আগেই যতটা ব
গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর আটঘন্টার ব্যবধানে উধমপুরে পরপর দুই বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেখানে কারও মৃত্যু না হলেও, গোয়েন্দা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই শীতের আগেই যতটা বেশি সম্ভব সন্ত্রাসবাদীদের কাশ্মীরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দেখাতে চাইছে কাশ্মীর উপত্যকা অস্থির।

পাকিস্তানে বসেই ষড়যন্ত্র
পাকিস্তানে বসেই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। আরও বেশি করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে কাশ্মীরকে আরও বেশি অস্থির করে তুলতে চাইছে প্রতিবেশী দেশ। তাদের হিংসার লক্ষ্য হল, এটাই দেখানো যে, স্থানীয়রা উপত্যকায় নয়াদিল্লির নেতৃত্ব মানতে রাজি নয়। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিস্ফোরণের মাধ্যটমে হত্যাকাণ্ড চালানো ছাড়াও টার্গেট কিলিংয়েও পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শ্রীনগর এবং আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩০০ অস্ত্র রয়েছে, যা নিয়ে যে কোনও সময় হামলা চালানো যেতে পারে।

বিস্ফোরণের পিছনে লস্কর
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের দাবি, উধমপুরে পরপর বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জম্মু ও কাশ্মীর সফরকে সামনে রেখেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যেখানে বলা মতো পরিস্থিতি তৈরি, সব কিছু ঠিক নেই।

পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, দাবি পুলিশের
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি দিলবাগ সিং বলেছেন, পাকিস্তান বরাবরই উন্নয়নের শত্রু। তারা ধ্বংসে বিশ্বাসী। গত ৩০ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে একই আচরণ করে যাচ্ছে। পাকিস্তান আর তাদের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি দেখাতে চায়, উপত্যকা অশান্তির মধ্যে রয়েছে। তবে দিলবাগ সিং-এর দাবি পরিস্থিতির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে সেখানে।

উধমপুর বিস্ফোরণের পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ
উধমপুরে প্রথম বিস্ফোরণটি হয় ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রকাতে। পেট্রোল পাম্পের কাছে দাঁড়ানো একটি বাসে বিস্ফোরণ হয়। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি হয় পরের দিন ভোরে উধমপুর বাসস্ট্যান্ডে। সেই বিস্ফোরণে বাসের ছাদ ও পিছথনের অংশ উড়ে যায়।
পুলিশের দাবি, এই দুই বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে, ডোডা জেলার বাসিন্দা বর্তমানে পাকিস্তানে বসে কাজ করা মহম্মদ আমিন ভাট। ওই ব্যক্তি ২১ সেপ্টেম্বর বসন্তগড়ের আসলাম শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং অমিত শাহের সফরের আগে বিস্ফোরণের দায়িত্ব দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই দুজনের পরিচয়। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে দিয়ালাচকে ড্রোনের মাধ্যমে স্টিকি বোমা ও আইইডি পাঠানো হয় আসলাম শেখের কাছে। আসলাম পরে সেই বিস্ফোরক বসন্তগড় থেকে রামনগরগামী বাসের ভিতরে আইইডি বসায়।
উধমপুর পুলিশ বিস্ফোরণের পরে যে পাঁচজনকে আটক করে, তাদের মধ্যো আসলাম শেখ অন্যতম। পুলিশের দাবি আসলাম বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
এছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ পর্যবেক্ষণ করেছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলা করতে পুরনো যোগাযোগগুলি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।












Click it and Unblock the Notifications