প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ভাগ করতে চাইছেন, আন্দোলন চলবে, বললেন রাকেশ টিকায়েত
প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ভাগ করতে চাইছেন, আন্দোলন চলবে, বললেন রাকেশ টিকায়েত
গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনটি কৃষি বিল প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যথারীতি মোদীর এই ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত দেশের কৃষকরা। তবে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত এখনও সন্তুষ্ট নন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করছেন। আর এই কারণেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান তিনি।

লখনৌতে কৃষক মহাপঞ্চায়েতে পৌঁছে টিকায়েত বলেন, 'গোটা একটা বছর লাগল সরকারকে এটা বোঝাতে যে, তাদের তৈরি আইন গরিব কৃষক, মজুরদের জন্য হিতকর নয়। আমরা আমাদের ভাষায় বোঝাতে চাইছিলাম, কিন্তু দিল্লির বাংলোতে বসে থাকা আধিকারিকরা অন্য ভাষা বুঝতেন৷ ওরা সবশেষে আইন প্রত্যাহার করল ঠিকই তবে এখন আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করতে চাইছে। বলছে, ওরা নাকি অনেক কৃষককে এই আইনের সম্পর্কে বোঝাতে পারেনি।'
সোমবার লখনউয়ের মহাপঞ্চায়েতে উপস্থিত ছিলেন পঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরাও। টিকায়েতের বক্তব্যে উঠে আসে কৃষকদের অন্যান্য সমস্যার কথাও। তিনি বলেন, ' এছাড়াও বহু কৃষক সমস্যা রয়েছে দেশে। সরকারের উচিত এই দিকে নজর দেওয়া৷ আমাদের আন্দোলন তাই থামছে না। শুধু তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করা তো আমাদের দাবি ছিল না। কৃষকদের জন্য মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস সহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করতেই হবে সরকারকে। ততদিন আমরা আন্দোলন ছাড়ছি না, দেশজুড়ে মানুষকে এই প্রসঙ্গে বোঝাবো আমরা।'
২০১১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এমএসপির সমর্থন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। টিকায়েত সেই কথাও মনে করিয় দেন। তিনি বলেন, ' সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে যে কমিটি এমএসপি সংক্রান্ত উপদেশ দিয়েছিল। তার অঙ্গ ছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ সেই রিপোর্ট এখনও পড়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে৷ নতুন করে কমিটি গড়ার কোনও দরকার নেই। মোদী নিজের উপদেশ নিজেই মেনে কাজ করুন।'
প্রসঙ্গত কৃষক আন্দোলনের পাশাপাশি শুরু থেকেই মোদী ও বিজেপিকে নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাকেশ টিকায়েত। এমনকি ২০২১ পশ্চিমবঙ্গ বিদানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতা এসে 'নো ভোট টু বিজেপি' আন্দোলনেও বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন রাকেশ। সংবাদমাধ্যমে মোদী কিংবা বিজেপি বিরোধিতার কোনও সুযোগই ছাড়েন না রাকেশ৷ তাই রাকেশের আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকিতে বিজেপি সরকারের চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ৷ অন্যদিকে আবার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অন্য একটি অংশের মতে আন্দোলন শেষ হলে রাকেশ টিকায়েতেরও নেতা হিসেবে গুরুত্ব কমবে তাই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী তিনি।












Click it and Unblock the Notifications