উত্তরপ্রদেশ-পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনের কারণেই কি প্রত্যাহার কৃষি আইন, মোদীর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন
উত্তরপ্রদেশ-পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনের কারণেই কি প্রত্যাহার কৃষি আইন, মোদীর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন
বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব-সহ পাঁচটি প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরোধীরা বলছেন, এই আইন রদ করা হয়েছে নির্বাচনে হারার ভয়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদী অনুতপ্ত হয়ে এই বিতর্কিত আইন তিনটি প্রত্যাহার করেননি। এর পিছনে রয়েছে রাজনীতির খেলা।

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রত্যাহার কৃষি আইন
আগামী ২৬ নভেম্বর কৃষি আইন এক বছর পূর্ণ করত। তার আগেই গুরু নানকের আবির্ভাব দিবসে কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতেই সমালোচনা শুরু হয়েছে, কৃষক আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে, কৃষকদের প্রয়াণে অনুতপ্ত হয়েই কি তিনি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন, নাকি তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আগামী বছরে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণ?

কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক সমীকরণ?
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রণয়ন করার পর আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল দেশজুড়ে। উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশের রাজধানী। টানা প্রায় এক বছর ধরে কৃষকরা মরণপণ সংগ্রামে ব্রতী হয়েছিলেন। মূলত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা আন্দোলনের সম্মুখভাগে ছিলেন। আর ২০২২-এর শুরুতেই সই পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে ভোট। ভোট উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরেও। তার আগে কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পিছনে তাই রাজনৈতিক সমীকরণ আছে বলেই মনে করছেন বিরোধীরা।

রাহুল গান্ধী আগেই বলেছিলেন নির্বাচন এলেই প্রত্যাহারের কথা
কংগ্রেস তো সরাসরি অভিযোগ করেছে, আগামী বছর নির্বাচন বলেই কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। রাহুল গান্ধী আগেই বলেছিলেন নির্বাচন এলেই মোদী সরকার কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে তার জন্য লাগাতার কৃষক আন্দোলনই যে প্রধান কারণ তা জানাতে ভোলেনি কংগ্রেস। কৃষকদের মরণপণ সংগ্রামের জন্যই মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে মোদী সরকার। তবে তা করেছে নির্বাচনের মুখে নির্বাচনে হারার ভয় থেকে।

নির্বাচনের ভয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে কৃষি আইন, বলেন চিদম্বরম
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যেমন এই কৃষি আইন প্রত্যাহারকে ভারতের অন্নদাতা কৃষকদের সত্যাগ্রহ ও কৃষকদের জয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন, তেমনই পি চিদম্বরম সরাসরি বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করে যা অর্জন করা যায় না, আসন্ন নির্বাচনের ভয়ে তা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নীতি পরিবর্তন বা হৃদয় পরিবর্তনের দ্বারা অনুপ্রাণিত নয়। নির্বাচনের ভয়ে তা করা হয়েছে বলে মনে করেন চিদম্বরম।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের পিছনে উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের নির্বাচনই কারণ
অর্থাৎ চিদম্বরম সরাসরি তোপ দাগেন, এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের নির্বাচনকে মাথায় রেখেই। যদি এখন নির্বাচন না হত মোদী সরকার কৃষি আইন রদ করত না। কৃষকরা এক বছর ধরে প্রাণপাত করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কত কৃষকের প্রাণ গিয়েছে, তবু নমনীয় হননি মোদী। এখন হঠাৎ করে কৃষি আইন প্রত্যাহারের পিছনে উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের নির্বাচনই কারণ বলে মনে করছেন বিরোধীরা।

৬০০-র অধিক কৃষক মৃত্যুর পর এই কালা কানুন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত
শুধু কংগ্রেসই নয়, বিরোধীরাও একই দাবিতে সরব হয়েছেন। মোদী সরকারের সমালোচনা করেছেন ৬০০-র অধিক কৃষক মৃত্যুর পর এই কালা কানুন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হল বলে। আরও আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। মোদী সরকার বুঝতে পেরেছে, কৃষক আন্দোলনের জেরে পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। পঞ্জাবে তাঁরা নিঃস্ব হয়েছে, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশেও তাদের পায়ের তলার মাটি সরছে। পায়ের তলার মাটি সরছে উত্তরাখণ্ড-সহ অন্যান্য রাজ্যেও। সম্প্রতি রাজস্থান ও হিমাচল প্রদেশের উপনির্বাচনেও জোর ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। তারপর এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

হারানো ভোট ব্যাঙ্ক ফিরে পাবে বিজেপি? কৃষি আইন প্রত্যাহারে প্রশ্ন
কৃষি আইনের প্রতিবাদে অকালি দল-সহ বিজেপির একাধিক জোটসঙ্গী এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। এখন নির্বাচনের আগে তাঁরা কি ফের জোট সমীকরণে আসবে বিজেপির সঙ্গে? আবার হারানো ভোট ব্যাঙ্ক ফিরে পাবে বিজেপি, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে আসন্ন নির্বাচনের ভোট-সমীকরণ রয়েছে একথা স্পষ্ট।

কৃষকদের সমর্থন না পেলে জেতা সম্ভব নয়, বুঝেই সিদ্ধান্ত মোদীর
বিজেপি ভালোমতোই জানে পাঞ্জাবে তারা কোণঠাসা, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কৃষকদের সমর্থন না পেলে জেতা সম্ভব নয়। তার একটা প্রভাব পড়বেই। সেই জায়গা থেকে মোদী সরকার কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নির্বাচনের তিনমাস আগে ফের একবার হারানো জমি ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে সামিল হল। অকালি দল, উত্তরপ্রদেশের অনেক জোট সঙ্গী তারা হারিয়েছেন, তাদেরও ফিরে পেতে মরিয়া হবে বিজেপি, এমনটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কৃষকদের বার্তা মোদীর
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন গুরু নানকের আবির্ভাব দিবসে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের স্বার্থেই এই তিনটি আইন করা হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে আমরা বোঝাতে পারিনি। তাই প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে আইন। সবাই এবার মাঠে নামুন। আবার কৃষিকাজে মন দিন।

আসন্ন লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া
তিনি জানান, আসন্ন লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হবে। কৃষকদের আন্দোলনকে সম্মান জানিয়েই এই আইন তিনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। গুরু নানকের জন্মদিনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী শেষপর্যন্ত নতি স্বীকার করলেন। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব-সহ পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিলেন মোদী।












Click it and Unblock the Notifications