আন্দোলন প্রত্যাহার করুন, কৃষি আইন বাতিলের পর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী মোদীর
আন্দোলন প্রত্যাহার করুন, কৃষি আইন বাতিলের পর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী মোদীর
কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলেছে। সংসদের শীতকালীন অধীবেশনে কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু যতক্ষণ না সেটা হচ্ছে আন্দোলন জারি রেখেছেন কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার তাঁদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সহায়ক মূল্য নিেয় যে দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা তা নিয়ে আলোচনা হবে। কৃষকদের উন্নয়নের জন্য একটি কমিটি গড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গুরুনানক জয়ন্তীর দিনে কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই কথা শুনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিলেন কৃষকরা। তারপর সাময়িক ভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন তাঁরা কিন্তু পুরোপুরি আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন জাির রাখার কথা ঘোষণা করেছিলেন কৃষকরা। ২৯ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে শীতকালীন অধিবেশন। সেই অধিবেশনে কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই সেই পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি।
তবে কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বেশি সময় লাগাননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি যত দ্রুত সম্ভব কৃষি আইন প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করতে মন্ত্রিসভার অধিেবশন ডেকে অনুমোদন করানো হয়েছে। এবার কেবল শীতকালীন অধিবেশনে আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কৃষকের জন্য নতুন কমিটি গড়া হয়েছে। সেই কমিটি কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে বলে জানিয়ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কীভাবে কৃষকদের আয় বাড়ানো যায় এবং কোন চাষে কৃষকদের কী কাজ করানো যায় তার কাজ করবে।
গত ২৬ নভেম্বর কৃষকদের আন্দোলনের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেদিন অসংখ্য কৃষক গতবছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিল। গাজিপুর, টিকরি, সিঙ্ঘু। ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন কমিটি গড়ে দিয়ে কৃষকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিরোধীরা মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখেই মোদী সরকার কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে আবার ২৯ নভেম্বর সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছেন কৃষকরা। সেদিন সংসদ চলো অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। সেদিন ট্রাক্টর মার্চের ডাক দিয়েছে কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সেদিন কৃষক আইন প্রত্যাহারের আনন্দেই এই মার্চের ডাক দিয়েছে। যদিও আগেই সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে এই সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটা ছিল কৃষি আইন প্রত্যাহার না হলে তার চরম পদক্ষেপ করার জন্য মোদী সরকারকে ২৮ তারিখের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তাঁরা কৃষি আইন প্রত্যাহার করার জন্য। তারপরেই দিল্লি চলো এবং সংসদ অভিযান করবে কৃষকরা এমনই অভিযোহ জানিয়েছিলেন। তারপরেই মোদী সরকার কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।












Click it and Unblock the Notifications