আন্তর্জাতিক উড়ানে ছাড় কতটা? ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করল মোদী সরকার
আন্তর্জাতিক উড়ানে ছাড় কতটা? ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করল মোদী সরকার
চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট। প্রায় ২০ মাস পর স্বাভাবিক হতে চলেছিল আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা। কিন্তু তার মধ্যেই উঁকি দিয়েছে করোনা ভাইরাসের আরেক মারণ ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা মিলেছে সেই ভ্যারিয়েন্টের। তাই নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আধিকারীকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, সতর্ক হয়ে যে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালু করা হয়। এই নিয়ে আধিকারীকদের বিশেষ নজরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

করোনা সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। স্কুল কলেজ খুলে গিয়েছিল। লোকাল ট্রেন পরিষেবাও চালু হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। দেশের দৈনিক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল। ১০ হাজারের নীচে নেমেগিয়েছিল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। যে থার্ড ওয়েভের শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গবেষকরা সেটা সাময়িক ভাবে অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। তাই অনেকজাই ছন্দে ফিরেছিল জনজীবন। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণ আফ্রিকার একাধিক দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের হদিশ ঘুম ছুটিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার। ডেল্টার থেকেও ভয়ঙ্কর এই ভ্যারিয়েন্ট। করোনা টিকাকরণের কোনও কাজ এই ভ্যারিয়েন্টের উপর হয়না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ডেল্টার থেকেও বেশি ওমিক্রনের মারণ ক্ষমতা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম খোঁজ মিলেছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের। ডেল্টার থেকেও ভয়ঙ্কর এই ভ্যারিয়েন্ট। তাই আর দেরি না করে তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা। বিদেশ যাত্রার এবং বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে কতটা কড়াকড়ি শিথিল করা যায় তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক্ষেত্রে একাধিক দেশে সফর ঝুঁকি পূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। এমন কী সেই সব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার উপরে বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, ইজরায়েল এবং হংকংকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এয়ার বাবল চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বিমান যাতায়াত করতে পারবে এই দেশগুলিতে।
শুধু পরিবহণের ক্ষেত্রেই নজর দেওয়ার কথা বলা হয়নি এই বৈঠকে। পাশাপাশি বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলেই মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত স্যানিটাইজ় করা এবং শারীরিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখা সহ একাধিক দূরত্ব বিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব, স্বাস্থ্য সচিব এবং কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহণ পরিষেবা স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারপরেই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের হদিশ মেলে। তাই নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications