হাওয়া ছাড়াও জিততে পারেন মোদী, গুজরাটে ফের ম্যাজিক দেখালেন ‘বিকাশ-পুরুষ’

আবারও তিনি টেক্কা দিলেন রাহুল গান্ধীকে। দ্বৈরথ জিতে তিনিই হলেন ‘ম্যান অফ দ্য মোমেন্ট’। এবারও মোদীর বিজয়রথ থামানো সম্ভব হল না রাহুলের পক্ষে।

এক-আধবার নয়, টানা ছ'বার গুজরাট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। আবারও তিনি টেক্কা দিলেন রাহুল গান্ধীকে। দ্বৈরথ জিতে তিনিই হলেন 'ম্যান অফ দ্য মোমেন্ট'। এবারও মোদীর বিজয়রথ থামানো সম্ভব হল না রাহুলের পক্ষে। বিহারে তিনি পেরেছিলেন কিন্তু গান্ধী-ধামে ব্যর্থ হল রাহুলের 'গেম-প্ল্যান'।

হাওয়া ছাড়াও জিততে পারেন মোদী, গুজরাটে ফের ম্যাজিক দেখালেন ‘বিকাশ-পুরুষ’

গুজরাট নির্বাচন আবারও স্পষ্ট করে দিল মোদীই প্রধান ফ্যাক্টর, মোদীই জয়ের কারিগর। হ্যাঁ, হাওয়া না থাকা সত্ত্বেও তিনি যে পালের হাওয়া ঘুরিয়ে দিতে পারেন, তা আবার দেখালেন মোদী। তাই মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি বা বিজেপি রাজ্য সভাপতি জিতু ভাগানি নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ফের গুজরাটে জেতালেন বিজেপিকে।

মোদীর 'গুজরাট অস্মিতা' অর্থাৎ 'গুজরাট গর্বে'রই জয় হল। তাঁর এই এক চালেই এক লহমায় উড়ে গেল সমস্ত অসন্তোষ, গত কয়েকবছরে গুজরাটজুড়ে যে গ্রামীণ অনুন্নয়ন, শুধু শহরকেন্দ্রিক কর্ম-পরিকল্পনা, নোট বাতিল ও জিএসটি-র খারাপ প্রভাব তৈরি হয়েছিল, শুধু একটা টোটকাতেই তিনি সারিয়ে দিলেন সেইসব রোগ।

যে সমস্ত ভোটাররা এতদিন বিজেপির বিরুদ্ধে ছিলেন, তাঁরাই ভোটবাক্সে বিজেপির পক্ষে মত দিলেন, কারণ তাঁদের নরেন্দ্র মোদীজি বলেছেন, আর একটা সুযোগ দিতে, তাই সমস্ত অসন্তোষ দূরে সরিয়ে গুরাট ঢলে পড়ল বিজেপির অনুকূলেই। বিজেপি গতবার ১১৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল, এবার তারা ১৫টি আসন কম পাচ্ছে। কংগ্রেস সেখানে ১৮টি আসন বাড়াতে সমর্থ হয়েছে, তবু এই জয় খাটো হওয়ার নয়।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্য বিজেপির জন্য টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এবার ১৫০টি আসন চাই। না, সেই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারেনি বিজেপি। তবে বিজেপি আবারও জয়যুক্ত হয়েছে। সমস্ত বুথ ফেরত সমীক্ষাই বলেছিল বিজেপি জিতছে গুজরাটে। কিন্তু সকালেই চমক দিয়ে তরতরিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। তখনই আশঙ্কারা বাতারবরণ তৈরি হয়েছিল বিজেপির। তবে সেই ট্রেন্ড ধরে রাখতে পারেনি রাহুলের কংগ্রেস। শেষপর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১০টি আসনের অ্যাডভান্টেজ ধরে রাখে বিজেপি। তা-ই কাঙ্খিত জয়ের পথে নিয়ে যায় নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের বিজেপিকে।

রাহুল এবার আঞ্চলিক নেতাদের নিয়ে মোদীর বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন। সেখানে অল্পেশ ঠাকুর থেকে শুরু করে জিগ্নেশ মেভানি রাহুলের মান রাখলেও, হার্দিকের গড়েই মার খেয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের স্ট্র্যাটেজি। পাতিদার ভোটেই কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। তবে হারলেও বিরোধিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন রাহুল গান্ধী, যা বিগত ২২ বছরের শাসনকালে দেখেনি মোদীর বিজেপি।

রাজ্যে কংগ্রেসের কোনও মুখ নেই, এটাই সবথেকে বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে কংগ্রেসের পক্ষে। আর মোদী তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সেই জায়গাতেই মাত দিয়েছেন রাহুলকে। অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানীর জমানার পর এই জমানায় নরেন্দ্র্র মোদীই যে বিজেপির এক ও অদ্বিতীয় মুখ, তা সুকৌশলে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। সে রাজ্যের ভোটই হোক বা কেন্দ্রের, মোদী-ম্যাজিক আজও অব্যাহত। বাতাস না বইলেও পালে কীভাবে হাওয়া টেনে নেওয়া যায়, তার উদাহারণ রেখে এই ভোট জিতলেন 'বিকাশ-পুরুষ'।

তিনি বুঝেছিলেন বিজেপির প্রতি রাজ্যের ভোটারদের মোহমুক্তি ঘটেছে। রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ব্যর্থতাতেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া উঠে গিয়েছে। গুজরাটে এমন একটা আবহ তৈরি হয়েছিল, যে মোদী আর তাঁদের সঙ্গে নেই, নেই উন্নয়ন। কিন্তু তিনি সেই রোগ আগাম বুঝতে পেরে, তার দাওয়াই দিয়ে রোগ সারাতে সম্ভবপর হয়েছেন। বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি গুজরাটিই আছেন। গুজরাটই তাঁর মননে। আর তাতেই কাজ হাসিল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+