রামলালাকে দেখে চোখে জল, প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর চরণামৃত পান করে উপোস ভাঙলেন মোদী
অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল অবশেষে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিলেই রামলালার মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হল। তার সঙ্গে সঙ্গে ১১ দিনের কঠোর ব্রত পালনের সমাপ্তি করেছেন তিনি। রামলালার মন্দিরের চরণামৃত পান করে উপবাস ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা তাঁর হাত দিয়ে হবে বলে একাধিক আচার এবং ব্রত পালনের কথা বলেছিলেন সন্ন্যাসীরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জানিয়েছিলেন কঠিন উপবাস এবং সংযমের মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হবে। প্রধান পুরোহিত এবং সন্ন্যাসীদের কথা মতোই কঠোর ব্রত এবং সংযমের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

১১ দিনের কঠোর ব্রত। বিদেশ সফরে নিষেধ করেছিলেন সন্ন্যাসীরা। সেটাই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। গত ১ মাসে কোথাও যাননি তিনি দেশের বাইরে। দেশ থেকেই যাবতীয় আন্তর্জাতিক কাজ কর্ম করেছেন তিনি। এবং সঠিক সময়ে শুরু করে দিয়েছিলেন ১১ দিনের ব্রত। মহারাষ্ট্রের নাসিকের পঞ্চবটি বন থেকে শুরু হয়ে ছিল তাঁর ব্রত উদযাপন। যেখানে যেখানে শ্রীরামের পদচিহ্ন পড়েছিল সেখানে সেখানে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
১১ দিনের ব্রততে বিছানা ছেড়ে মাটিতে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। একবেলা আহার করতেন। সেটাও নারকেলের জল। একেবারে অন্নগ্রহণ ত্যাগ করেছিলেন তিনি। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক আগের দিন তিিন পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর ধনুষকোটিতে। এই ধনুষকোটিতেই রাম সেতু তৈরি করেছিলেন হনুমান। লঙ্কা থেকে সীতাকে উদ্ধারের জন্য এই ধনুষ কোটি থেকে লঙ্কা পর্যন্ত সেতু তৈরি করেছিলেন রাম। সেই ধনুষকোটিতে পুজো করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
তারপরেই তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন অযোধ্যায়। একেবারে নির্ধারিত সময়েই অযোধ্যার মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। রামলালার মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রধান যযমান ছিলেন তিনি। সংকল্প করে তিনিই রামলালার মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন। প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় আবেগান্বিত হয়ে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর চোখ দিয়ে জল বইছিল।
প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর পঞ্চপ্রদীপ, চামর, ফুল দিয়ে আরতি করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তারপরে রামলালার সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন তিনি। এবং সেখানে উপস্থিত সন্ন্যাসীদের প্রণাম করে তাঁদের দান করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরে মন্দিরের চরণামৃত পান করে উপবাস ভাঙেন তিনি। ১১ দিনের কঠোর ব্রত অবশেষে ভাঙলেন অযোধ্যার মন্দিরেই। মন্দিরের পুরোহিত তাঁকে চরণামৃত পান করান। মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাঁকে রুপোর অযোধ্যার রাম মন্দিরের রেপ্লিকা তুলে দেওয়া হয়। তারপর তিনি হনুমান ঘড়ি এবং কুবের টিলা পরিদর্শনে যান।












Click it and Unblock the Notifications