বুমেরাং হবে নাতো রাহুল গান্ধীর অঙ্গীকার? তেলেঙ্গানা থেকে দক্ষিণ ভারত-সংখ্যালঘুদের নিয়ে নিশানা মোদীর
তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ থেকে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী আপত্তি মূলত রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক স্লোগান নিয়ে। যেখানে রাহুল গান্ধী বলেছেন, যত জনসংখ্যা তত বেশি অধিকার। প্রধানমন্ত্রী এদিন নাম না নিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস তার ক্ষমতার ক্ষুধার জন্য একটা নতুন ভাষা বলতে শুরু করেছে।
নাম না করে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন এই বাক্যটি কে লিখেছেন। তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, আপনি যখন এই কথা বলছেন, আপনি কংগ্রেসের মৌলিক নীতিগুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিনা। তিনি বলেন, আপনি যখন বলেন, জনসংখ্যা যত বেশি, অধিকার তত বেশি। তার মানে কংগ্রেসকে ঘোষণা করতে হবে যে এটা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কিনা? কংগ্রেসকে স্পষ্ট করতে হবে এটা দক্ষিণ ভারতের বিরুদ্ধে কিনা?

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেসের এই চিন্তাভাবনা দক্ষিণ ভারতের জন্য একটি গুরুতর অবিচার। এই নতুন চিন্তা কি সংখ্যালঘুদের পিছন থেকে ছুরি মারার চিন্তা নয়, সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজকাল দেশে বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে ২৫ বছর পরে সংসদে কত আসন থাকবে? সেই অনুযায়ী যেখানে জনসংখ্যা কম, সেখান আসন সংখ্যা কম আর যেখানে জনসংখ্যা বেশি সেখানে আসন সংখ্যা বেশি। এই জায়গায় দক্ষিণ ভারতের সব রাজ্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে দেশকে সাহায্য করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, এখন কংগ্রেসের স্লোগান হল যত মানুষ, তত অধিকার...এর অর্থ এখন কংগ্রেস দক্ষিণ ভারতের সংদ সদস্যের সংখ্যা কমানোর ভান করতে চলেছে। দক্ষিণ ভারত কি কংগ্রেসের পদক্ষেপ মেনে নেবে? দক্ষিণ ভারত কি কংগ্রেসকে ক্ষমা করবে, সেই প্রশ্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, তিনি কংগ্রেস নেতাদের স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, দেশকে বোকা বানাবেন না। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন অন্যায়ের খেলা চলছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করুন। তিনি আরও বলেন, জোটের অন্য দলগুলিকে বলবেন, যদি সাহস থাকে, তাহলে কংগ্রেসকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা কোন পথে চলেছে।
তিনি বলেন, তিনি দ্বিতীয় প্রশ্নটি করেছেন, দক্ষিণের তামিলনাড়ুর মন্দিরের ওপরে সরকারের অধিকার রয়েছে। সরকারের যোগসাজসে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করা হচ্ছে। মন্দির লুট করা হচ্ছে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় স্পর্শ করা হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন করেছেন, এখন কংগ্রেসের দেওয়া নীতি যদি হয় যত জনসংখ্যা, তত অধিকার, তাহলে তারা কি সংখ্যালঘুদের সব উপাসনালয় বাজেয়াপ্ত করবে?
প্রসঙ্গত সোমবার বিহারের জাত ভিত্তিক সমীক্ষার তথ্য প্রকাশের পরে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, দেশের জাতপাতের তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে তাদের জনসংখ্যা অনুসারে অধিকার পেতে হবে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলেন, বিহারের বর্ণসুমারিতে দেখা গিয়েছে, সেখানে এসসি-এসটি-ওবিসি ৮৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের ৯০ জন সচিবের মধ্যে মাত্র ৩ জন ওবিসি। যারা ভারতের বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ পরিচালনা করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, অতএব, ভারতের জাতপাতের পরিসংখ্যান জানা জরুরি। যত বেশি জনসংখ্যা, তত বেশি অধিকারী, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।












Click it and Unblock the Notifications