যাঁদের শ্রমের পরিণতি অযোধ্যার এই রম্য মন্দির, তাঁদের উপর পুস্পবৃষ্টি করে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালো পাথরের রাম লালার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন তিনি। তারপরে তিনি তাঁর ১১ দিনের কঠোর উপবাসের ব্রত ভাঙেন। রামলালাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাম মন্দিরের উদ্বোধন করার পর তিনি চলে গিয়েছিলেন কুবের টিলা এবং হনুমান ঘড়িতে।
সেখানে পুজো দিয়ে প্রণাম করেন প্রধানমন্তী মোদী।এর মধ্যে তিনি রাম মন্দিরের নির্মাণে যাঁরা কাজ করেছেন সেই শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের উপরে পুস্পবৃষ্টি করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন বলেই এই রমনীয় রাম মন্দির তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রাম মন্দির নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। যেমন রাজস্থান থেকে এসেছে পাথর। বিহার-উত্তর প্রদেশের শ্রমিকরা কাজ করেছেন। মন্দিরে মার্বেলের উপর নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ুর শিল্পীরা। ভারতের কোনও না কোনও প্রান্তে অবদান রয়েইছে এই মন্দির তৈরিতে। সবচেয়ে বেশি অবদান যাঁদের রয়েছে তাঁরা শ্রমিক। যাঁরা নিেজদের শ্রম দিয়ে এই মন্দির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি করে দিয়েছেন।
সেই শ্রমিকদের কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর তাঁদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের উপর পুস্পবৃষ্টি করেন তিনি। নিজের ভাষণেও বারবার সেই শ্রমিকদের কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি ধন্যবাদ জানিেয়ছেন তাঁদের নিরলস শ্রমকে। তিনি বারবারই সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই রাম মন্দির উদ্বোধনের নেপথ্যে যে কারিগররা কাজ করেছেন তাঁদের কথা।
রামলালার মূর্তি যিনি তৈরি করেছেন সেই শিল্পীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কর্নাটকের মহীসূরের শিল্পী অরুণ যোগীরাজ তৈরি করেছেন রামলালার সেই অসাধারণ মূর্তি। ৫ বছরের বালকের মুখের সারল্য নিয়েই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে। কারণ এখানে রাম রাজা নন তিনি কৌশল্য নন্দর রাঘব। ৫ বছরের বালক রূপেই পুজিত হবেন। ৮ ফুট উঁচুতে হয়েছে মূর্তিিট। মূর্তির নিজের উচ্চতা ৬ ফুট। বেদীর উপরে বসানোয় তার উচ্চতা বেড়ে হয়েছে ৮ ফুট। সকলে যাতে দেখতে পান সেকারণেই এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
মূর্তির নীচেই বসানো হয়েছে রামলালার পুরনো মূর্তি যেিট গত ৭২ বছর ঘরে পুজো করা হচ্ছে রাম জন্মভূমিতে। সেখান রামলালার সঙ্গে ভরত, শত্রুঘ্ন এবং লক্ষ্মণও রয়েছেন। সকলকেই সেখানে বসানো হয়েছে। নিত্যপুজো হবে তাঁদেরই। আর নতুন মূর্তিটি সাজানো হয়েছে অসম্ভব সুন্দর করে। তাঁর কপালে রয়েছে হিরের তিলক। মাঝে রুবি বসানো। মাথায় সোনার মুকুট। গায়ে সোনার গয়না। হাতে সোনার ধনুক এবং তির। ভুলের মালায় আজ ভরিয়ে তোলা হয়েছিল তাঁকে।
যযমান হয়ে মন্দিরের পুজো সংকল্প করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ১১ দিন তার জন্য কঠোর ব্রত পালন করেছেন। একাধিক মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। একবেলা নারকেলের জল খেয়েছেন। অন্ন গ্রহণ করেননি। রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর চরণামৃত পান করে উপবাস ভাঙেন তিনি। রামলালার পুজো নিষ্ঠা ভরে করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কোথাও কোনও আয়োজনে খামতি রাখা হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications