বিরোধীনেতার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী 'দ্বিচারী', প্রমাণ তুলে ধরে মমতার পাশে কংগ্রেস, তেজস্বী
দুই রাজ্যে দুই ঘূর্ণিঝড়ের দাপট। গুজরাতে (gujarat) বিজেপি (bjp) ক্ষমতায় আর পশ্চিমবঙ্গে (west bengal) বিরোধী আসনে। কিন্তু দুই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর (narendra modi) দুই নিয়ম বা দুরকমের অবস্থান। যা নিয়ে শোরগোল তু
দুই রাজ্যে দুই ঘূর্ণিঝড়ের দাপট। গুজরাতে (gujarat) বিজেপি (bjp) ক্ষমতায় আর পশ্চিমবঙ্গে (west bengal) বিরোধী আসনে। কিন্তু দুই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর (narendra modi) দুই নিয়ম বা দুরকমের অবস্থান। যা নিয়ে শোরগোল তুলল কংগ্রেস (congress)। বিষয়টি নিয়ে প্রমাণ তুলে ধরে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দাঁড়াল কংগ্রেস।

পর্যালোচনা বৈঠকে ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। কলাইকুন্ডায় পর্যালোচনা বৈঠকও করেন তিনি। সেই পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্যপাল ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেই পর্যালোচনা বৈঠকে ছিলেন না। যদিও তিনি সামান্য সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষয়ক্ষতি সম্বলিত নথি তুলে দিয়ে এসেছিলেন। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় চলে যান।

শুভেন্দু থাকায় আপত্তি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। আর বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি ছিল। যা বৈঠক নির্দিষ্ট হওয়ার সময়েই রাজ্যের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। আর শুক্রবার সন্ধে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে উপস্থিত না হওয়া নিয়ে একের পর এক বিজেপি নেতারা টুইট করে কড়া সমালোচনা শুরু করেন।

গুজরাতের কংগ্রেস নেতার টুইটে নিশানা
বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন, গুজরাতের কংগ্রেস নেতা ভরত সোলাঙ্কি। টুইটে তিনি বলেছেন, এটা শুনে ভাল লাগছে যে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় গিয়ে সেখানকার বিরোধী দলনেতকে আমন্ত্রণ করেছেন। এছাড়াও তিনি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
একইসঙ্গে ওই কংগ্রেস নেতা বলেছেন, তিনি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় তাউকটে পরবর্তী সফর করেছিলেন নিজের রাজ্য গুজরাতেও। কিন্তু তিনি সেখানে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। বৈঠকেও তিনি ছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি কোনও বিরোধী নেতাকে আমন্ত্রণ জানাননি তিনি। প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক গুজরাত সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

প্রশ্ন তুলেছেন অপর বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব
শুধু ভরত সোলাঙ্কিই নন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। টুইটে তিনি বলেছেন, এটা জেনে ভফাল লাগছে যে প্রধানমন্ত্রীর অফিস বাংলার বিরোধী নেতাকে ইয়াস পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই নজির আশাকর্মী পরবর্তী সময়েও বজায় রাখা হবে, বিশেষ করে যেই রাজ্যে বিরোধী নেতা বিজেপির নন, সেইসব রাজ্যের ক্ষেত্রেও। প্রসঙ্গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ওড়িশা সফর করে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন ওড়িশার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির নেতাও।
কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতাদলের তরফে এইধরনের বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে কার্যত দ্বিচারী বলেই বর্ণনা করা হয়েছে। আর কংগ্রেসের এই অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকেও শক্ত করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications