খুলে গেল ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে, জানেন কী কেন একে স্মার্ট অ্যান্ড গ্রিন হাইওয়ে বলা হচ্ছে

ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এটি ভারতের প্রথম স্মার্ট এবং গ্রিন ৬-লেনের হাইওয়ে।

রবিবার, ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে-র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটি ভারতের প্রথম স্মার্ট এবং সবুজ ৬-লেনের হাইওয়ে। এটি দিল্লির জ্যাম কমাবে এবং পালওয়াল, গৌতম বুদ্ধ নগর, ফরিদাবাদ ও গাজিয়াবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করবে। পাশাপাশি , এটি একটি পরিবেশ-বান্ধব হাইওয়ে। লক্ষ্য ছিল ৯১০ দিনে কাজ শেষ করার। কিন্তু সে লক্ষ্যেমাত্রার চেয়ে অনেক আগে রেকর্ড ৫০০ দিনের মধ্যেই এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে!

খুলে গেল ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে

তবে এটি একটি আরও বড় পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত। এর সঙ্গে ওয়েস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত হয়ে দিল্লির চারপাশে ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রিং রোড হবে। যার ৮৭ কিলোমিটার যাবে উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে, আর প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার বিস্তৃত থাকবে হরিয়ানা রাজ্যের মধ্যে। তবে শুধু যোগাযোগের উন্নতি নয়, আরও বিভিন্ন কারণেই এই পরিবেশবান্ধব সবুজ হাইওয়েটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। আসুন এক নজরে এই হাইওয়ের বিভিন্ন 'স্মার্ট' বৈশিষ্ট্যগুলির সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

এই এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর বুক থেকে প্রায় ২ লক্ষ্য যানবাহনের ভার কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, দিল্লিতে বাণিজ্যিক গাড়িঘোড়া প্রবেশ অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। ফলে রাজধানীর দূষণের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এর নির্মাণে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একাধিক প্রবেশ এবং প্রস্থানের জায়গা থাকায় বিভিন্ন এলাকাথেকেই এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করা যাবে।

এক্সপ্রেসওয়েটিতে বিভিন্ন অত্যাধুনিক স্মার্ট এবং ইন্টেলিজেন্ট হাইওয়ে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। এর মধ্যে আছে ভিডিও ইন্সিডেন্ট ডিটেকশন সিস্টেম, ওভারস্পিড চেকিং সিস্টেম, পেভমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ওয়েই-ইন-মোশন, বিভিন্ন ওয়ার্নিং ডিভাইস, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ইত্যাদি।

টোল সংগ্রহে দ্রুততা আনতে ও নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে এই নয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলিতে ইলেকট্রনিক টোল কালেক্শন (ই.টি.সি) ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জানানো হয়েছে টোল নেওয়া হবে দূরত্বের ভিত্তিতে হবে এবং পুরো রাস্তার দৈর্ঘ্যের জন্য নয়। অর্থাৎ রাস্তাটির কম অংশ ব্যবহার করলে টোল কম পড়বে, বেশি ব্যবহারে টোলও বাড়বে।

এক্সপ্রেসওয়েটির যাবতীয় আলো চলবে ১০০ শতাংশ সৌরশক্তিতে। এর জন্য এক্সপ্রেসওয়েটি জুড়ে মোট ৮টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র তারি করা হয়েছে। যা থেকে প্রতিদিন ৪০০০ কিলোওয়াট বা ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া রাস্তাটি সব আবহাওয়ায় টেকসই এমন কংক্রিট গিয়ে তৈরি হয়েছে। ফলে বারবার সারাইয়ের ঝক্কি নেই। পাশাপাশি থাকছে ৭ টি ইন্টারচেঞ্জ, ৪৩০ টি ব্রিজ, অনেকগুলি ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস।

যাত্রী পরিষেবারও অভাব থাকছে না এই ইস্টার্ণ পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়েতে। ওয়াশরুম থেকে শুরু করে মোটেল, পেট্রোল পাম্প, দোকান, বিশ্রামের এলাকা, রেস্টুরেন্ট, মেরামতি পরিষেবা ইত্যাদি নানান পরিষেবা থাকছে দীর্ঘ এই হাইওয়েটি জুড়ে।

এক্সপ্রেসওয়েটির আরো আকর্ষণ সৌর বিদ্যুতে চলা ড্রিপ ইরিগেশনের সুবিধা সহ ভার্টিকাল গার্ডেন। সাইকেল চালকদের জন্যও রাস্তার দুদিকেই আড়াই মিটার চওড়া সাইকেল ট্র্যাক রাখা হয়েছে। আছে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থাও। এই হাইওয়েতে প্রায় আড়াই লক্ষ গাছ লাগানো হয়েছে। সঙ্গে থাকছে ২৮ টি ঝর্ণা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+