Pahalgam: পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর ভারতের পাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মোদীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন
পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। একইসাথে, ওয়াশিংটন ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সরকারের সাথেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ব্রুস আরও বলেন, "আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। গতকাল, সচিব বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সাথে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা ভারতের সাথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।"

তিনি আরও জানান, আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন। ব্রুস সেই আলোচনার একটি প্রতিলিপিও উল্লেখ করেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার নিন্দায় সরব বিশ্ব। এই পরিস্থিতিতে, সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে আমেরিকা ভারতের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ব্রুস ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বিদেশমন্ত্রী উভয় দেশকে একটি দায়িত্বশীল সমাধানের দিকে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। আমি আগেই বলেছি, আমরা উভয় দেশের সরকারের সাথে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ রাখছি।"
উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বানে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে ব্রুস জানান, "আমরা উভয় পক্ষের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল সমাধান আশা করছি। এর বাইরে, আমি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছি না।"
উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। এই ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।
সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করা, আটারিতে সমন্বিত চেকপোস্ট বন্ধ করা এবং ইসলামাবাদে হাইকমিশনের সদস্য সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত।
এছাড়াও, সরকার পহেলগাঁও হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিনা প্ররোচনায় চালানো গুলিবর্ষণের যোগ্য জবাব দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications