তারা ধ্বংস করেছে, ঘটনাকে টুইস্ট করেছে! ভাইব্রেন্ট গুজরাত সামিটে গোধরার ঘটনার বর্ণনা মোদীর
অনেকদিন পরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখে শোনা গেল গুজরাত দাঙ্গার কথা। প্রধানমন্ত্রী এদিন হাজির হয়েছিলেন ভাইব্রেন্ট গুজরাত সামিটে, সেখানেই তিনি ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার কথা বর্ণনা করেন। গুজরাত সরকার যে চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয়েছিল, তাই বলেন মোদী। প্রসঙ্গ সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী মোদী দাঙ্গার সময় অ্যাজেন্ডা চালানোর জন্য বিরোধীদের নিন্দা করেছেন। আহমেদাবাদের সায়েন্স সিটিতে ভাইব্রেন্ট গুজরাত গ্রোবাল সামিটের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ২০ বছর দীর্ঘ সময়। ২০০১ সালের ভূমিকম্পে যে রাজ্য কেঁপে উঠেছিল, সেই ঘটনা কেউ ভুলতে পারবে না।

তিনি বলেছেন, গোধরার ঘটনার পরে রাজ্যে হিংসা গ্রাস করেছিল। তখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা কম থাকলেও, মানুষের প্রতি অগাধ আস্থা ছিল। বিরোধীদের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোধরার ঘটনার সময় কিছু লোক তাদের নিজেস্ব অ্যাজেন্ডা চালাচ্ছিল। তারা গুজরাতকে বদনাম করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তথ্যকে টুইস্ট করে কিছু লোক নেতিবাচকতা ছড়ায়। তারা ভেবেছিল রাজ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সংকল্প করেছিলেন ওই পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে গুজরাত। তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে কেন্দ্রীয় সরকার যারা চালাতেন, তারা গুজরাতের উন্নয়নকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করতেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ভাইব্রেন্ট গুজরাতে আসতে চাইতেন না।
সেই সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হুমকি দেওয়া হত এবং গুজরাতে আসতে বাধা দেওয়া হত বলেও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এত হুমকির পরেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গুজরাতে আসেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, তারা গুজরাতের শুধু পুনঃউন্নয়নই করেননি, তার ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তা করেছেন। এর জন্য ভাইব্রেন্ট গুজরাতকে মূল চ্যানেল বানানো হয়েছে। ভাইব্রেন্ট গুজরাতকে গুজরাতের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য একটি চ্যানেল এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলার একটি চ্যানেল করা হয়েছিল।
উল্লেখ করা যেতে পারে ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরায় ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনায় অযোধ্য ফেরত ৫৮ জন করসেবকের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে প্রায় তিনমাসের বেশি সময় ধরে গুজরাতের টানা হিংসার ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রেহাই দেয়।












Click it and Unblock the Notifications