গুজরাতে মোরবি সেতু দুর্ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন
গুজরাতে মোরবি সেতু দুর্ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন
গুজরাতে মোরবি ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় আদালতের তত্ত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের আবেদন করেছেন এক আইজীবী। বিশাল তিওয়ারি নামের এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে গুজরাতের মোরবি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন নিয়োগের আবেদন করেছেন। পাশাপাশি সমস্ত রাজ্যে এধরনের যে সমস্ত সেতু বা স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে তাঁর সমীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের আবেদন করেছেন তিনি।

মোরবি সেতু ভেঙে পড়ায় জনস্বার্থ মামলা
আইনজীবী বিশাল তিওয়ারি গুজরাতে মোরবি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় জনস্বার্থ মামলা করেছেন। সেখানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছে, মোরবি সেতু ভাঙার ঘটনায় অসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে যেন বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক শতাব্দী প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। বা অনেক পুরনো দ্রষ্টব্য ভবন বা মোরবি সেতুর মতো সেতু রয়েছে। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জনস্বার্থ মামায় করা হয়। জনস্বার্থ মামলায় আবেদন করা হয়েছে, রাজ্যগুলো যেন নিজেরা পর্যবেক্ষণ করে, পরিস্থিতি অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করে।

মোরবি সেতু দুর্ঘটনা
রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ গুজরাতের মোরবি শহরে শতাব্দী প্রাচীন ঝুলন্ত সেতু ভেঙে যায়। ঘটনায় নিচে মাচ্ছু নদীতে পড়ে ১৪৩ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। রাজকোটের বিজেপি সাংসদের ১২ জন আত্মীয় এই ঘটনায় প্রাণ হারান। জাতীয় বিপর্যয় বাহিনী, রাজ্যে বিপর্যয় বাহিনী, সেনা ও নৌবাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। গুজরাত সরকার ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে, মোরবি পৌরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সেতুটিকে রক্ষণাবেক্ষণের পর ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। এমনকী সেতুটিকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

তদন্তে উঠছে একাধিক অভিযোগ
মোরবি সেতু দুর্ঘটনায় একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সাত মাস আগে সেতুটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে। এই রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয় ওরেভা গ্রুপের সঙ্গে। কিন্তু সিএফএল বাল্ব, দেওয়াল ঘড়ি এবং ই-বাইক তৈরি করে এমন সংস্থাকে কেন শতাব্দী প্রাচীন এই ঝুলন্ত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হল এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মোরবি সেতু রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি নিয়েও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঝুলন্ত সেতুটি মেরামতের জন্য সাত মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফিট সার্টিফিকেট ছাড়াই ২৬ অক্টোবর গুজরাতি নববর্ষের দিন তা খুলে দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications