পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে মুক্তি এবার খুব শীঘ্রই! বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদী সরকার
অন্য দামে বিশ্ব বাজার থেকে তেল কেনা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে। সমস্ত জায়গার প্রাইস ইনডেক্স মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি দামে অনেক বেশি ওঠা-নামা দেখা যায় তাহলে অন্য ক্ষেত্র থেকে তেল আমদানি করার বিষয়েও ভাবনা চিন্
ক্রমশ বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। ইতিমধ্যে ১১০ টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। যে ভাবে দাম বাড়ছে তাতে মধ্যবিত্তের পকেটে আগুন। এই অবস্থায় পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে স্বস্তি দিতে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে মোদী সরকার।
আর সেদিকে তাকিয়ে বিশেষ প্ল্যান তৈরি করতে চলেছে সরকার। তবে সরকার এক্সসাইজ ডিউটি কমানোর পক্ষে নয়। কারণ পাঁচ টাকা প্রতি লিটারে এক্সসাইজ ডিউটি যদি কমানো হয় তাহলে বাড়তি টাকা মাত্র 0.20 শতাংশ কম হবে।

এক নজরে দাম
বলে রাখা প্রয়োজন এই মুহূর্তে দিল্লিতে পেট্রোল ১০৬ টাকা ৫৪ পয়সাতে বিক্রি হচ্ছে। ডিজেলের দামও ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। ডিজেল প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছে 96.27 টাকাতে। মুম্বইতেও বেড়েছে দাম। ৩৩ পয়সা দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সে রাজ্যেও। এই মুহূর্তে বানিজ্য নগরে পেট্রল প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১১২ টাকা ৪৪ পয়সাতে। ডিজেলের দাম ৩৭ পয়সা বাড়ায় আজকে বৃহস্পতিবার সে রাজ্যে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারে ১০৩ টাকা ২৬ পয়সাতে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার এই মুহূর্তে কি ভাবছে?
বিভিন্ন সরকারের সূত্র থেকে নানা খবর সামনে আসছে। জানা যাচ্ছে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়ে সরকার সংস্থার দামের উপরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে। তেল সংস্থাগুলির দামের উপর বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়ার পথে। শুধু তাই নয়, অন্য দামে বিশ্ব বাজার থেকে তেল কেনা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে। সমস্ত জায়গার প্রাইস ইনডেক্স মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি দামে অনেক বেশি ওঠা-নামা দেখা যায় তাহলে অন্য ক্ষেত্র থেকে তেল আমদানি করার বিষয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে জিএসটি বসানো নিয়েও সরকার রাজি আছে বলে সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও একাধিক রাজ্যে চায় না জিএসটি বসানোতে।

দাম কমানোর ক্ষেত্রে আরও বড় এক পদক্ষেপ
এছাড়াও বলে রাখা প্রয়োজন যে ভারত একটি গ্রুপ বানাতে চলেছে। যেখানে সরকার এবং private refinery সংস্থাগুলিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। যেখানে ক্রুড ওয়েলে আমদানির ক্ষেত্রে সর্বস্তরে দাম, চাহিদা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। মূলত পেট্রল-ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই এই পদক্ষেপ। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সচিব সম্প্রতি এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ট্যাক্স কি কম হতে চলেছে?
সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার এখনই কর কমানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। পাঁচ টাকা প্রতি লিটারে এক্সসাইজ ডিউটি যদি কমানো হয় তাহলে বাড়তি দাম কমার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব পড়বে না। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে এই বিষয়ে জানিয়ে ছিল যে এপ্রিল ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পেট্রল এবং ডিজেলের উপর এক্সসাইজ ডিউটি থেকে 3.35 লাখ কোটি টাকা রোজগার করে নিয়েছে। তবে এই বিষয়ে সরকারের আরও বেশি রোজগার হত কিন্তু লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ার কারনে এতে ধস নেমে যায়।
এক্সসাইজ ডিউটি শুধু পেট্রোল-ডিজেল থেকেই রোজগার হয় না। বরং প্রাকৃতিক গ্যাস, ATF, ক্রুড ওয়েল থেকেও রোকজগার হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে আর্থিক বছর অর্থাৎ ২১ সালে সরকারের মোট এক্সসাইজ ডিউটি থেকে 3.89 লাখ কোটি টাকা রোজগার হয়েছিল।

জরুরি তথ্য -
যে ভাবে দাম বৃদ্ধি হচ্ছে জ্বালানির তাতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু বিশ্বের তৃতীয় সবথেকে বড় তেল আমদানি দেশ ভারত। চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেল আমদানির উপরেই নির্ভর করে। একটা বিশাল অংশের তেল মধ্য-পূর্ব উৎপাদক দেশগুলির উপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। ফলে এই মুহূর্তে বিশ্ব বাজারে ক্রমশ বাড়ছে ক্রুড ওয়েলের দাম। মোটা অঙ্কের দামে বিক্রি হচ্ছে। এই অবস্থায় বাড়তি দামের প্রভাব ড়তে চলেছে ভারতের উপরেও।












Click it and Unblock the Notifications