দরগাহের তলাতেই মন্দির! হিন্দু সেনা প্রধানের দাবির পরেই বড় পদক্ষেপ আদালতের
Ajmer Sharif Dargah: আজমির শরীফ দরগাহের তলাতেই রয়েছে শিবের মন্দির। কাশী ও মথুরার মতো! এমনই দাবি করে সমীক্ষা চালানোর আর্জি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন হিন্দু সেনা প্রধান বিষ্ণু গুপ্তা।
তারপরই আজমীরের আদালত নোটিশ পাঠাল কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রক, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও আজমীর দরগাহ কমিটির কাছে।

বিষ্ণু গুপ্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দায়রা আদালতের বিচারক মনমোহন চাণ্ডেল ওই নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সুফি সন্ত খাজা মৈনুদ্দিন চিশতির সমাধির তলাতেই রয়েছে শিব মন্দির।
বিষ্ণুর কথায়, আদালত জানতে চেয়েছিল কেন আমরা আর্জি জানাচ্ছি। আদালত এরপর আমাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শুনে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেয়। প্রয়াত বিচারক তথা রাজনীতিবিদ তথা শিক্ষাবিদ হর বিলাস সারদার ১৯১০ সালে লেখা বইয়েও মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে।
হিন্দু সেনা প্রধানের দাবি, হর বিলাস সারদা ব্রিটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তিনি তাঁর বইয়ে লিখেছেন, দরগাহের ভিতর ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে অবস্থিত মন্দিরে মহাদেবের ছবি রয়েছে। সে কারণে রীতি মেনে প্রতিদিন একটি ব্রাহ্মণ পরিবারের তরফে ওই জায়গায় চন্দন রাখা হয়।
বিষ্ণু গুপ্তা বলেন, আজমিরে সারদার নামে রাস্তা আছে। আমরা আদালতকে বলেছি, তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য। সত্য উদ্ঘাটনে অন্তত একটি সমীক্ষা চালানো হোক। হিন্দু ও জৈন মন্দির ধ্বংস করেই আজমির দরগাহ স্থাপন করা হয় বলেও দাবি বিভিন্ন মহলের।
বিষ্ণুর আরও দাবি, স্থানীয়দের কাছে শুনেছি ৫০ বছর আগেও ওখানে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। সেখানে পুরোহিতরা পুজো করতেন। পরে সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়। সমীক্ষা চালানো হলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। হিন্দু সংগঠনের ওই নেতা আরও বলেন, আমরা চাই দরগাহটিকে হিন্দু মন্দির বলে ঘোষণা করা হোক। দরগাহের রেজিস্ট্রেশন থাকলে তা বাতিল হোক। এএসআই সমীক্ষা চালাক। হিন্দুরা সেখানে যেন পুজোর অনুমতি পায়।
উল্লেখ্য, আগামী জানুয়ারিতে আজমির দরগায় হবে ৮১৩তম উরস। তার আগেই আদালতে হিন্দু সেনা প্রধানের দাবি তাৎপর্যপূর্ণ। বিষ্ণু গুপ্তা বলেন, চিশতি সাহেব এখানে জন্মাননি। তিনি এখানকার মানুষও নন। তাঁর আগে এখানে ছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌহান। শহরের নাম ছিল অজয়মেরু।
রাজস্থানের ভজনলাল শর্মা সরকার রাজস্থানের পর্যটন উন্নয়ন নিগমের অধীনস্থ আজমিরের হোটেল খাদিমের নাম বদলে করেছে অজয়মেরু। এবার বিষ্ণু গুপ্ত দাবি করলেন, শহরের নাম ছিল অজয়মেরু। রাজস্থান বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা আজমির উত্তরের বিধায়ক বাসুদেব দেবনানিও জানিয়েছিলেন, দ্বাদশ শতাব্দীতে পৃথ্বীরাজ চৌহানের আমলে অজয়মেরুর কথা ভারতের নানা বই, ইতিহাস বইয়েও আছে।
দরগাহের গাড্ডি নশিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ সরোবর চিশতির পাল্টা দাবি, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এমন সব দাবি করা হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে। নানা সময় নানা অপরাধীরা এমন দাবি করে আসছে। ২০০৭ সালে ভবেশ প্যাটেল দরগাহের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল। এই দরগাহে সব ধর্মের মানুষই প্রার্থনা জানাতে আসতে পারেন। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে মামলাটি স্থানীয় আদালতে পাঠানো হয়েছিল। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ ডিসেম্বর।












Click it and Unblock the Notifications