‘ঝাড়খণ্ডে দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর করোনার প্রভাব বেশী’-চরণ
‘ ঝাড়খণ্ডে দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর করোনার প্রভাব বেশী’-চরণ
নিউ নর্মালে যখন বিশ্ব ফিরছিল। মানুষ একটু আশার আলো দেখছিল ঠিক তখন 'ওমিক্রন’এসে সব যেন উল্টেপাল্টে দিল। আবারও আশঙ্কায় বিশ্ববাসী। কিছুতেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে থেকে উদ্বেগ কাটছে না। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক দিকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বাদ পড়েনি পঠনপাঠনও।

কোভিডের প্রকোপ বেশী দরিদ্রের ওপর
ঝাড়খণ্ডের (NHM)- এর মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তেজকরণ চরণ একটি সমীক্ষা করেন। ঝাড়খণ্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM) দ্বারা পরিচালিত আর্থ-সামাজিক সমীক্ষায় উঠে এল একটি জরুরি তথ্য। যেখানে দেখা গিয়েছে করোনার প্রকোপ বেশী পড়েছে দরিদ্র এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সমীক্ষাটি করা হয় ঝাড়খণ্ডের ১১ টি জেলায়। জেলগুলি হল চাতরা, পূর্ব সিংভূম, গাড়োয়া, গুমলা, হাজারিবাগ, কোডারমা, লোহারদাগা, সাহেবগঞ্জ, সরাইকেলা, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূম। জেলাগুলিতে WHO প্রতিনিধিদের সহায়তায় তথ্যটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বেশীর ভাগ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে
উল্লেখযোগ্যভাবে বলা হয় ঝাড়খণ্ডে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৫,১৩৮ জন মোট ৩,৪৮,৭৪৬ জন। বলাবাহুল্য, যেখানে মানুষ করোনার কারণে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছে। নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠীর আয় মাসে ১০,০০০ টাকার কম। যাদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশী দেখা গিয়েছে। ৪৪৩ জনের মৃত্যুর একটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে মৃতদের মধ্যে ৬২.২ শতাংশ কম আয় করেন।

সমীক্ষিত ১১টি জেলায় মৃত ৪৪৩ জন
সমীক্ষায় আরও জানানো হয়েছে, সমীক্ষিত জেলাগুলিতে ৪৪৩ জন মৃত্যুর মধ্যে ৩৩১ (৭৪.৭২)পুরুষ এবং ১১২ (২৫.২৮%) মহিলা। সমীক্ষায় এও উঠে এসেছে, সমীক্ষিত ১১টি জেলায় ৪৪৩ জন মৃতের মধ্যে, ১৫৭ জন (৩৫.৪%) প্রতি মাসে যাদের আয় ছিল ৪,০০০ টাকার কম উপার্জন। সামগ্রিকভাবে, ২৭৬ জন (৬২.২%) যাদের প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকার কম উপার্জন ছিল।
চরণ বলেন, ''করোনা প্রভাব ঝাড়খণ্ডবাসীর ওপর মারাত্মকভাবে পড়েছে। ১৩% মানুষ করোনার প্রভাবে মারা গেছেন যাদের আয় মাত্র ২৫,০০০ টাকার বেশী। দরিদ্র এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে করোনার প্রভাব বেশী লক্ষ্য করা গেছে। ৪৪৩ জন মৃত্যুর নমুনা আকারে, যেখানে ৫৫% লোক আয়ুষ্মান ভারত কার্ড ব্যবহার করতেন।''
সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬% অদক্ষ এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিযুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১০ জন প্রায় (২৫%) শ্রমিক ও কৃষক ছিলেন। যারা করোনার চিকিৎসার জন্য ১০ কিমি বেশী পথ অতিক্রম করে গেছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে।
যদি খরচের বিশ্লেষণে করা যায় তাহলে দেখা যাবে, কোভিড-১৯-এ মারা যাওয়া রোগীদের প্রত্যেকের জন্য গড়ে খরচ হয়েছে ৮৩,৭৩৬ টাকা।












Click it and Unblock the Notifications