পেগাসাস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া 'ডিবেট' নয়, আদালতে যা বলার বলুন, পিটিশনারদের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
pegasus,supreme court, india, পেগাসাস, সুপ্রিম কোর্ট, ভারত
পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন পিটিশনাররা। এদিন আদালত প্রশ্ন তোলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পেগাসাস নিয়ে এত আলোচনা কেন? যা বলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিবেট না করে, আদালতে বলুন। প্রসঙ্গত, পেগাসাস ইস্যুতে গত সপ্তাহে এক প্রস্থ শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এরপর এই সপ্তাহে সেই নিয়ে মামলার শুনানি চলতেই আদালত কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছে।

ভারতের বুকে ফোনে আড়িপাতা কাণ্ড ঘিরে বারবার উঠে এসেছে পেগাসাসের নাম। প্রসঙ্গত, সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর আগের রাতে প্রবলভাবে ভারতের রাজনীতিতে ঝড় তুলে পেগাসাস ইস্যু বড় আকার নেয়। এই ইস্যুতে বারবার বিরোধীদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে মোদী সরকার। যদিও সরকারের দাবি বিরোধীদের প্রবল ষড়যন্ত্রের ফলাফল হল এই পেগাসাস ঝড়। গতকালই কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে যে পেগাসাস নির্মাতা এনএসওর সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কোনও সংযোগ নেই। এর আগে দুই অস্তিত্বের মধ্যে কোনও লেনদেন হয়নি। এদিকে অভিযোহ পেগাসাস সফ্টওয়্যার শুধু মাত্র সরকারকেই বিক্রি করে থাকে সংসথা এনএসও। সেই জায়গা থেকে ভারতের বুকে পেগাসাস ঢুকেছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে একাধিক বিরোধী নেতা ক্ষোভ জাহির করেছেন। শুরু হয়েছে মামলা। এই মামলা শীর্ষ আদালতে গিয়েছে। সেখানেই এদিন এর বিচার চলাকালীন আদালত সাফ জানিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে বিশেষ ডিবেট না করে আদালতে এসে যা বলার যেন বলা হয়।
সুপ্রিম কোর্টে এদিন পেগাসাস ইস্যুতে এদিন সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইজীবী কপিল সিবাল। এদিন কপিল সিবাল বলেন, পেগাসাস এমন একটি জিনিস যা অজান্তেই ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়ছে। কপিল সিবাল বলেন, এমন নজরদারি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রজাতন্ত্রের পক্ষে খারাপ। এর আগে গত সপ্তাহে এই মামলায় প্রশ্ন তুলে কপিল সিবাল ক্যালিফোর্নিয়া কোর্টের বক্তব্যের উল্লেখ করেন। এই ইস্যুতে তিনি উল্লেখ করেন ওই মামলার রায়ে বলা হচ্ছে পেগাসাসের ভয়াবহ কোড একবার অ্যাক্টিভেট হয়ে গেলে নির্দিষ্ট ডিভাইসের সঙ্গে মেলওয়্যারকে সংযুক্ত করে দেওয়া যায়। এর সঙ্গেই কপিল সিবালের প্রশ্ন আসে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে কেন এনএসও টেকনোলজির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হল? এদিকে সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন কপিল সিবাল একাধিক বক্তব্য তুলে ধরেন। এর আগে, ২০১৯ সালে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠলেও , তা নিয়ে কোনও তথ্য প্রমাণ আসেনি। এদিকে সেই ইস্যুতে আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার এই ইস্যুতে কিছু জানায়নি। কোনও তথ্য প্রমাণও পেগাসাস নিয়ে আসেনি। ফলে যতদিন না তথ্য প্রমাণ আসছে, ততদিন এই ইস্যুতে কিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা উচিত হবে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, পেগাসাস নিয়ে যাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী মনোহর লাল শর্মা। এছাড়াও রয়েছে বাম নেতা ও সিপিএমএর রাজ্য়সবার সাংসদ জন ব্রিটস। এছাড়াও সাংবাদিক এন রাম ও সশী কুমাররা রয়েছেন আবেদনকারীর তালিকায়। এছাড়াও আড়িপাতা কাণ্ডে পরাঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা, প্রেম শঙ্কর ঝা, রূপেশ কুমার সিং, ইপ্সা সাতাক্ষীর নাম রয়েছে পেগাগস স্পাইওয়্যার কাণ্ডে। তাঁরাও দায়ের করেছেন মামলা। আর সেই মামলারই শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এদিকে পেগাসাস ইস্যুতে তদন্তের দাবি করেছে এডিটার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়া। আদালতে এই ইস্যুতে যে সমস্ত আবেদন পত্র জমা পড়েছে ,সেখানে তদন্তের দাবি করা হয়েছে। এই ইস্যুতে এর আগে এই ইস্যুতে এক পিটিশনারের কাছে প্রশ্ন রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। পেগাসাস ইস্যুতে আইটি অ্যাক্টের আওতায় কেন মামলা হচ্ছে না ? পিটিশনারকে প্রশ্ন করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আদালতের তরফে। এদিকে, পিটিশনাররা গত সপ্তাহে আদালতে দাবি করেন, ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস নির্মাতা এনসওকে নিয়ে কেন এখনও সরকার কোনও বক্তব্য রাখছে না? যার পর অবশ্য , কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এনএসওর কোনও যোগ নেই।












Click it and Unblock the Notifications