গুজরাতে ক্রমেই শক্ত হচ্ছে পায়ের তলার মাটি, আপকে সমর্থন পাটিদারদের একাংশের
গুজরাত নির্বাচনে পাটিদারদের একাংশ আপকে সমর্থন করছে,
ভারছা রোড বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আপ প্রার্থী হয়েছেন আলপেশ কাথিয়ার। পাটিদার আন্দোলনে তিনি আপোসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ভারছা রোড বিধানসভা কেন্দ্রে একটি রোড শো করেন কাথিয়ার। তিনি গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের প্রচারে স্লোগান দেন, বাব্বর শের এসেছে। এখানে আর কেউ সুযোগ পাবে না।

কাথিয়ারের সমর্থকরা ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে থাকেন। ঘোড়ার পিঠে চড়ে আলপেশ কাথিয়ার রোড শো করেন। তাঁকে ঘোড়ায় চড়ে প্রচার করতে দেখে অনেকেই ঘর থেকে বাইরে চলে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আলপেশ কাথিয়ার তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তিনি একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৫ সালে গুজরাতে পাটিদার আন্দোলনে আলপেশ কাথিয়ার জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আপোসহীন আন্দোলন, আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য তিনি বাব্বর শের উপাধি পেয়েছিলেন।
কাথিয়ার সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিজেপি পাটিদার সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পাটিদার আন্দোলনের একাংশ বিজেপির কট্টর সমর্থক ছিলেন। কাথিয়ার বলেন, ২০১৭ সালে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা আমাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করেছিল, তা প্রত্যাহার করবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি তা করেনি। পাটিদার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হাজারের বেশি যুবকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার জন্য তাঁদের বার বার আদালতে মামলার জন্য যেতে হচ্ছে।
কাথিয়ার অভিযোগ করেন, বিজেপি শুধু পাটিদার সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তা নয়, গুজরাতের মানুষকে বিজেপি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিজেপি গুজরাতের মানুষের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গুজরাতের মানুষ প্রবল মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের যন্ত্রণায় ভুগছে। বিজেপির দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুর্দশার বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।
প্রসঙ্গত, পাটিদারের একাংশ বিজেপির কট্টর সমর্থক ছিলেন। ২০১৫ সালে পাটিদারদের অন্দোলনের সময় গুজরাত সরকারের ভূমিকা তাঁদের বিরোধী করে তুলেছিল। অন্দোলনের সময় পুলিশের অভিযানে ১৪ জন পাটিদার যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। পাটিদারদের আনামত আন্দোলন সমিতির বেশ কয়েকজন নেতাদের বিরুদ্ধে কয়েকটা মামলা গুজরাত সরকার দায়ের করেছিল।
হার্দিক প্যাটেল পাটিদারদের কোটা সম্প্রদায়ের জন্য লড়াই করেছিলেন। তিনি চলতি বছরের জুন মাসে বিজেপিতে যোগ দেন। এর আগে হার্দিক প্যাটেল ২০১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আলপেশ কাথিয়ার অক্টোবরে আপে যোগ দিয়েছিলেন। আলপেশ কাথিয়ারে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটিদার সম্প্রদায়ের একাংশ আপের সমর্থক হয়ে গিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে বলেন, 'গুজরাতের সাধারণ মানুষ বিজেপির শাসনে বিরক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গুজরাতের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমার মনে হয়েছে, গুজরাতে শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন। সেই কারণে আমি আপে যোগ দিয়েছি। আপ রাজনৈতিক দল হিসেবে যথেষ্ঠ সৎ। এবং তারা মানুষের জন্য কাজ করে।'












Click it and Unblock the Notifications