পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা পতঞ্জলির! নয়া রূপে বাজারে এল রামদেবের ‘করোনিল’ ট্যাবলেট
করোনা মহামারীর বাড়বাড়ন্তের মাঝেই দেশীয় চিকিৎসা হিসেবে আসরে নামে যোগগুরু রামদেব বাবার আয়ুর্বেদিক সংস্থা 'পতঞ্জলি'। যদিও সেইবারে করোনাবিরোধী মানদন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি পতঞ্জলির 'করোনিল'। সম্প্রতি শুক্রবার নয়া রূপে করোনিলকে বাজারে আনার কথা জানাল রামদেবের সংস্থা। পাশাপাশি সংস্থার বক্তব্য, বিশ্বের ১৫৮টি দেশে দিব্যা করোনিল ট্যাবলেট ও দিব্যা সরস্বতী বাতি রপ্তানির ছাড়পত্র পতঞ্জলি পেয়েছে হু-এর থেকে!

বিভিন্ন দেশে ঔষধি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদন্ড নির্ধারণ করে হু। সেই পরীক্ষায় কোনো ওষুধ পাশ করলে তবেই মেলে সিওপিপি সার্টিফিকেট। সূত্রের খবর, হু-এর ৫ই নভেম্বরের শংসাপত্র দেওয়ার নিয়মানুসারে শুক্রবার পতঞ্জলিকে সিওপিপি প্রদান করে ভারতের ডিজিসিআই ভিজি সোমানি। জানা যায়, গত বছর করোনার ওষুধ হিসেবে 'করোনা কিট' বাজারে এনে যথেষ্ট বিপাকে পড়ে পতঞ্জলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থার হৃতগৌরব ফেরানোর শেষ চেষ্টা করছেন রামদেব।
সূত্রের খবর অনুসারে, ৭ই জানুয়ারি পতঞ্জলিকে ভারতের আয়ুর্বেদ মন্ত্রকের তরফে যে চিঠি লেখা হয়, তাতে হরিদ্বারের সংস্থাকে ছাড়পত্র দেওয়ার ইঙ্গিত প্রকাশ পায়। যদিও এক সরকারি আধিকারিকের মতে, "আমরা খুব কড়াভাবেই পতঞ্জলিকে বলেছি যাতে করোনিলকে করোনার ওষুধ হিসেবে না ছড়ানো হয়, বদলে একে 'সহায়ক ওষুধ' বলতে হবে।" করোনার ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে রোগীকে করোনিল দেওয়ার কাজ শুরুও হচ্ছে দেশের বেশ কিছু স্থানে।
ইতিপূর্বে কোনোরকম ট্রায়াল ছাড়াই করোনিলকে করোনার ওষুধ হিসেবে চালানোর অভিযোগ উঠেছিল পতঞ্জলির বিরুদ্ধে। উত্তরাখন্ড সরকারের তরফে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে মামলাও রুজু করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে এই আয়ুর্বেদিক সংস্থা। সায়েন্স ডিরেক্ট জার্নাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৪৫ জন চিকিৎসাধীন ও ৫০ জন প্লেসবোপ্রাপ্তকে করোনিল দেওয়া হয়। পতঞ্জলি সূত্রে জানা গেছে, গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবকদলের করোনা রোধে সহায়তা করেছে করোনিল, পাশাপাশি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি পতঞ্জলির ওষুধে।
শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের উন্নয়নের বিষয়ে বেশ আশার সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের কন্ঠে। তাঁর মতে, "করোনার আগে আয়ুর্বেদিক ক্ষেত্রের বার্ষিক বৃদ্ধি ১৫-২০% থাকলেও বর্তমানে তা ৫০-৯০%-এর কোটায়!" বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পতঞ্জলির ট্রায়ালের বিষয়ে বেশ ইতিবাচক দেখা গেছে হর্ষ বর্ধনকে। পাশাপাশি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রভিত্তিক ওষুধের উপর শুরু হওয়া নিত্যনতুন ট্রায়ালের বিষয়েও জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে আবার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) কথাও তোলেন কেন্দ্রীয় সড়ক-পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি।












Click it and Unblock the Notifications