আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা চাপ বাড়াচ্ছে ভারতের, বিদেশ মন্ত্রকের উদ্বেগ প্রকাশ
পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে উদ্বেগে ভারত
এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান সাহায্যর পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড ব্লোম এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে আজাদ কাশ্মীর বলে উল্লেখ করেন। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত। ভারত মার্কিন বিদেশ দফতরে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভ্রমণ
৩ অক্টোবর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড ব্লোম পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে আজাদ কাশ্মীর বলে উল্লেখ করেন। ডোনাল্ড ব্লোম সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন। মুজাফফরাবাদে কায়েদ-ই-আজম মেমোরিলায় ডাক বাংলো পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন। মার্কিন কোনও উচ্চ স্থানীয় কূটনীতিক আধিকারিকের পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভ্রমণ এবং তাকে আজাদ কাশ্মীর বলে উল্লেখ করা স্বাভাবিকভাবে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

কাশ্মীর ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের নিষেধাজ্ঞা
ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বিষয় আরও জটিল করেছে সম্প্রতি মার্কিন একটি ঘোষণা। একদিন আগে আমেরিকা ভারতে ভ্রমণকারী মার্কিন পর্যটকদের সাবধান করেছে। ভারতে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসবাদের কারণে পাক সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের অভ্যন্তরে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে পরামর্শে। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে নয়াদিল্লির ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।

পাকিস্তানকে সাহায্য
পাকিস্তান ইস্যুতে ভারতের ওপর বার বার চাপ প্রয়োগ করছে আমেরিকা। এক মাস আগেই বাইডেন প্রশাসন ভারতের এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান মেরামতের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। যার তীব্প প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত। তবে বাইডেন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানকে কোনও যুদ্ধ বিমান দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানে এফ-১৬ যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে। তা মেরামতের জন্য এই অর্থ সাহায্য করা হয়েছে। তবে এই যুদ্ধ বিমান পাকিস্তান কোন কাজে ব্যবহার করবে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বার বার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মদত দেওয়া অভিযোগ উঠেছে।

চাপের মুখে ভারত
ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষকে সমর্থন করেনি। তবে পশ্চিমি দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পরেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করেছে। যার জেরে এমনিতেই পশ্চিমি দেশগুলোর সুনজরে নেই ভারত। তারমধ্যে প্রতিবেশী দেশ আমেরিকার চাপে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। পাকিস্তান ইউক্রেনকে সামরিক দিক দিয়ে সাধ্যমতো সাহায্য করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে ভোটদানে ভারত বার বার বিরত থেকেছে। ব্রিটেন ইতিমধ্যে পাকিস্তানের প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, এখন যুদ্ধের সময় নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মোদীর প্রশংসা করলেও ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে পশ্চিমি দেশগুলো পাকিস্তানের সংঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications