ফের জলসীমায় অশান্তি, ভারতীয় মৎস্যজীবীকে গুলি করে হত্যা করল পাক নৌসেনা
ফের জলসীমায় অশান্তি, ভারতীয় মৎস্যজীবীকে গুলি করে হত্যা করল পাক নৌসেনা
ভারতীয় মৎস্যজীবীকে গুলি করে হত্যা করল পাক নৌসেনা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। পাকিস্তানের অভিযোগ জলসীমান্ত লঙ্ঘন করাতেই পাক নৌসেনা গুলি চালায়। যদিও ভারতের তরফে তার তীব্র সমালোচনা করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে গুজরাটের ওখা বন্দরের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমা বুঝতে না পেরে ভুল করে ঢুকে পড়েছিল ভারতীয় মৎস্যজীবী। কিন্তু তাঁকে সতর্ক না করেই গুলি চালায় পাক নৌসেনা। গুলির আঘাতে মৃত্যু হয় এক মৎসজীবীর। আহত হয়েছেন আরও এক মৎস্যজীবী। গুজরাটের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জানা গিয়েছে শনিবার বিকেলে জলপরী নামে একটি নৌকা নিয়ে মৎস্যজীবীরা গুজরাটের সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সেই নৌকায় ছিলেন সাত মৎস্যজীবী। ভুল করেই তাঁরা আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানের জলসীমান মধ্যে। পাক নৌসেনা তাঁদের সতর্ক না করেই এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে নৌকার মধ্যেই মারা যান এক মৎস্যজীবী। বাকিরা কোনও রকমে নৌকা নিয়ে পালিয়ে আসেন। কিন্তু গুলি চালানো থামায়নি পাক নৌসেনা। তাঁদের এলোপাথারি গুলিতে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মৃত মৎস্যজীবীর নাম শ্রীধর রমেশ চামরে (৩২)। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা তিনি। তাঁর সঙ্গে আরও ৬ মৎসজীবী ওই নৌকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ভারতীয় জলসীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারেননি তাঁরা। জলসীমান্ত বোঝানোর জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায় না। সেকারণে কেউ জলসীমান্ত পার করলেই আগে তাঁদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাঁদের কোনও কিছু করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভারতীয় মৎস্যজীবীরা। পাক নৌসেনা কোনও রকম সতর্কতা জারি না করেই গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু করেছে।
রবিবার শ্রীধর রমেশ চামর নামে ওই মৎসজীবীর দেহ গুজরাটের ওখা বন্দরে নিয়ে আসা হয়। এরপরই নভি বন্দর পুলিশে এফআইআর দায়ের করে। মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার ভাদরাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া গোটা গ্রাম। জয়ন্তীভাই রাঠোর নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে নৌকা ভাড়া করে শনিবার সমুদ্রে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। যেসময় পাক নৌসেনা গুলি চালায় সেসময় তিনি কেবিনের ভিতরে ছিলেন। গুলি সরাসরি তাঁর বুকে এসে লাগে, ঘটনাস্থই মারা যান তিনি। নৌকার প্রধান চালকও পাক নৌসেনার এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত হয়েছেন।
এর আগেও একাধিকবার ভারতীয় নৌসেনার উপর গুলি চালিয়েছে পাক নৌসেনা। একাধিক ভারতীয় মৎস্যজীবী বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের জেলে। ২৭০ জন মৎসজীবী এবং ৪৯ জন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক পাকিস্তানের জেলে বন্দি রয়েছেন। এদিকে আবার পাকিস্তানের ৭৭ জন মৎসজীবী এবং ২৬৩ জন পাক নাগরিক অনুপ্রবেশের অপরাধে ভারতীয় জেলে বন্দি রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications