কাশ্মীরে অশান্তির জন্য হাওয়ালার মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে পাকিস্তান, দাবি গোয়েন্দাদের
নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই : হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি আবদুল বুরহান ওয়ানি পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যাওয়ার পর থেকেই কার্যত জ্বলছে কাশ্মীর উপত্যকা। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১৪০০ জন। [কাশ্মীরে নিহত হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির জঙ্গি হয়ে ওঠার কাহিনি]
গত সপ্তাহে কুলগমের দমহল হাজি পোরা পুলিশ স্টেশনের উপরে হামলা চালায় একদল জনতা। পুলিশের অভিযোগ, সেদিন পুলিশ স্টেশন থেকে ৭০টি সেমি অটোমেটিক পিস্তল ও আরও স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ছিনতাই করে জঙ্গিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জঙ্গিরাই সেই অস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপরে হামলা চালাচ্ছে। [কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি দলে নাম লেখাচ্ছে কারা? জেনে নিন]

এই ঘটনার পরে গোটা কাশ্মীরে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় খানা-তল্লাশি। এর মাঝেই বুরহান ওয়ানির পুলিশ এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়। তারপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। [আইএসআইএস-হিজবুল মুজাহিদিন জোট কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা চালাবে]
কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়া নিয়ে তদন্ত চালাতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, প্রতিবছর হাওয়ালার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে টাকা আসে শুধুমাত্র কাশ্মীর জুড়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরির জন্য।
গোয়েন্দাদের মতে, এই টাকা সরাসরি চলে যায় কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হাতে। এরপরে সেই টাকা কমবয়সী যুবকদের বিলি করে উপত্যকার নানা জায়গায় পুলিশ ও সেনার বিরুদ্ধে মিছিল, অবরোধ, বিরোধ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ঝামেলা পাকাতে, পাথর ছুড়তে বা পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে ভারত বিরোধী স্লোগান দিতেও অর্থ ব্যয় করা হয়।
এর পাশাপাশি কাশ্মীরের নানা জায়গায় বিভিন্ন সময়ে যেসমস্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, সেই মিছিলের মধ্যে প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাও ঢুকে পড়ে। তারা এরপর পুলিশ বা সেনাদের উপরে হামলা চালায়।
প্রসঙ্গত, কাশ্মীর উত্তপ্ত হওয়ার পর থেকেই ভারতের উপরে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে পাকিস্তান। কাশ্মীরের নাগরিকদের উপরে ভারত সরকার জুলুম চালিয়ে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই রিপোর্ট থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কীভাবে কাশ্মীর তথা ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করা চেষ্টা করে যাচ্ছে পাকিস্তান।












Click it and Unblock the Notifications