'জলের বোতল বিক্রি ৩২০ টাকায়' দেশে ফিরে নেপাল ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ ভারতীয় পর্যটকদের

নয়াদিল্লি, ২৯ এপ্রিল: ২৫ তারিখ দিনটার অভিজ্ঞতা যেন চোখের সামনে এখনও জীবন্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন কেমন তছনছ হয়ে গেল প্রকৃতির রোষে। মাটির কম্পন কয়েকমুহূর্তেই পাল্টে দিল গোটা ছবিটা। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালে আটকে পড়ার পর নানা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন বহু পর্যটক।[ নেপালের ঘটনা 'তুচ্ছ', 'গ্রেট হিমালয়ান ভূমিকম্প' আসা এখনও বাকি, বলছেন বিজ্ঞানীরা]

উত্তরপ্রদেশের বদ্রীনাথ চৌবে। বছর ৪৫-এর এই সরকারি চাকুরে স্ত্রী ও বড় মেয়ের সঙ্গে নেপাল ১০ দিনের ট্যুরে গিয়েছিলেন। ২৪ তারিখই পৌঁছেছিলেন নেপালে। সেদিনটা বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন থেকে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা ছিল। [ ভারতে 'তীব্র' ভূমিকম্প নিয়ে 'নাসার এসএমএস' ভুয়া, জানাল কেন্দ্র]

'জলের বোতল বিক্রি ৩২০ টাকায়' দেশে ফিরে নেপাল ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ ভারতীয় পর্যটকদের

চৌবে বাবু বললেন, 'ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখলাম। তবে মনে হচ্ছে, ভূমিকম্পের পরের চিত্রটা আরও বেশি ভয়ঙ্কর। মেয়ের ডান পায়ের উপর ভেঙে পড়েছিল একটা বিশাল বড় থাম। ও পা-টা নাড়াতেই পারছে না। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার সময়ই পাচ্ছেন না। তাদেরও দোষ দিই না। হাসপাতালে এত রাশ, তার উপর অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা আগে প্রয়োজন, কিন্তু চোখের সামনে মেয়েটাকেও যে এই অবস্থায় দেখতে পারছি না।' [নেপাল ভূমিকম্প : হেল্পলাইন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য]

অন্যদিকে ঋষি আহুজা। ভূমিকম্পের জেরে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে পড়েছিল ঋষি। বেরতে পারছিল না। ঋষির কথায়, "সে স্তুপ শুধু ইঁট কাঠ পাথরের ছিল না, ছিল মৃত ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া কিছু ঠাণ্ডা শরীরেও। তারই মধ্যে টানা আড়াই দিন আটকে ছিলাম। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, বমি যেন গলার কাছে দমক দিচ্ছে। তবুও কোনও উপায় নেই। মিথ্যা বলব না ওই পরিস্থিতিতে সত্যিই অনেকবার মৃত্যু কামনা করেছিলাম।" যদিও আইএএফ-এর জাম্বো জেটে জরুরিকালীন অবস্থান ভারতে ফিরে আসতে পেরেছেন ঋষি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ভার্গভ ত্রিবেদীও, ভূমিকম্প, আফটার শক, সব পেরিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য যখন বিমানবন্দরে পৌছলাম, তখন দেখি প্রায় ৬-৭ হাজার মানুষ ততক্ষণে বিমানবন্দরের মাটি আকঁড়ে পড়ে গিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয়। সবাই বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। নেপালি পুলিশকর্মীরা ভিড় সামলাতে নাকানিচোবানি খাচ্ছেন। ফলে বিরক্ত হয়ে, কখনও ধাক্কাও মারছেন ভিড় হঠাতে। ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের ফোন সুইচড অফ। দিশেহারা অবস্থা। [(ছবি) নেপাল বীভৎস ভূমিকম্প, পথেই দিন গুজরান ভয়ার্ত আমজনতার]

অনুভব বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভূমিকম্পের জেরে নেপালে আটকে পড়েছিলেন। অনুভব জানালেন, কাউকে খাটো না করেই বলছি, নেপালের ভূমিকম্পে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাই তবে যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন তাদের অবস্থাও কিন্তু বেশ শোচনীয় ছিল। সময় যত বাড়ছে তত মানুষের বিরক্তি বাড়ছে, হাসপাতালে জায়গা নেই, একটা রোগীর গায়ের উপরই প্রায় আর একজনকে এনে ফেলে রাখা হচ্ছে। ওষুধ নেই। খাবার নেই। কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে একটা জলের বোতল ৩২০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছিল। বিস্কুটের ছোট ১০ টাকার প্যাকেট সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আমরা তা কিনতে বাধ্যও হচ্ছিলাম। ভগবানের অশেষ দয়া শেষমেষ দেশে ফিরে আসতে পেরেছি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+