Pahalgam Terror Attack: এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, হিন্দুদের ধর্মভেদে নিশানারই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ
পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি আক্রমণ ঘটিয়ে ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় নাগরিককে খুন করা হয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগ মানুষ পর্যটক ছিলেন। এই ঘটনা ঘটিয়েছে লস্কর-ই-তৈবার ছায়ায় থাকা টিআরএফ (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট)। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কাশ্মীর উপত্যকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকেই যেন ফের একবার মনে করিয়ে দেওয়া। যেখানে হিন্দুদের বিরুদ্ধে লুকিয়ে রয়েছে একরাশ ঘৃণা। এই জঙ্গিরা টাকা চায়নি। তাদের আলাদা কোনও চাহিদাও ছিল না। তারা এসেছিল শুধুমাত্র খুন করার উদ্দেশ্য নিয়ে। মস্তিষ্কে ছিল সেই একই ঘৃণাভরা ভাবনা। এবং তারা সেই স্লোগান দিচ্ছিল, যে স্লোগান, একসময় মুখরিত হয়েছিল ৯০ এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার সময়।
মনে রাখতে হবে এটা শুধুমাত্র মানুষের উপর হামলা নয়, এই হামলা আদতে করা হয়েছে ভারত নামক এক সার্বভৌম এবং সম্মিলিত ভাবনার বিরুদ্ধে।

১৯৯০ সালের প্রতিধ্বনি: সেই ভুলে যাওয়া ঘরছাড়াদের কান্না
পহেলগাঁওয়ে যে মর্মান্তিক হত্যালীলা চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে সাড়ে তিন দশক পুরনো কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যা এবং ঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনার মিল রয়েছে। সেই সময় মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘর থেকে টেনে বার করে বলা হয়েছিল- ধর্মান্তরিত হও, পালিয়ে যাও অথবা মৃত্যুবরণ করো। সেই সময় প্রায় এক লক্ষ ৪০ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকায় বসবাস করতেন। যার মধ্যে এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষ পালিয়ে আসেন। তাছাড়াও সেই সময়ে বহু মানুষকে জঙ্গিরা খুন করেছিল।
যখন পর্যটকদের ধরে ধরে খুন করা হচ্ছে, তখন এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে কাশ্মীরের অবস্থা কি সত্যি পাল্টেছে? উত্তর খুব স্পষ্ট। অবস্থা পাল্টেছে একমাত্র বিজেপি পরিচালিত সরকারের সময় যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাথানত করেনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল এক ঐতিহাসিক প্রত্যাঘাত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। তবে জঙ্গি সংগঠনগুলি যারা পাকিস্তান মদতপুষ্ট তারা ক্রমাগত উপত্যকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা শান্তিপূর্ণ বহুত্ববাদ সম্বলিত ঐক্যবদ্ধ জম্মু-কাশ্মীরের কল্পনা করতে পারে না। সেজন্যই তারা আমজনতাকে টার্গেট করেছে। পহেলগাঁওয়ে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে খুন করার ঘটনা এটা প্রমাণিত যে শান্ত পাহাড়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর শেষ চেষ্টা তারা করেছে।
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের ধর্মান্তকরণ
পেহলগাঁওয়ে যা হয়েছে তা শুধু ভারতের মাটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশে এই ধরনের নৃশংসতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। কাশ্মীরে থাকা হিন্দু হোক অথবা বাংলাদেশ, পাকিস্তানে থাকা হিন্দু - তাঁরা প্রত্যেকেই বিকৃত ধর্মীয় বিকলাঙ্গতার শিকার। যে ভাবনার গণতন্ত্রে এবং বহুত্ববাদে কোনও স্থান নেই।
বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে যেখানে হিন্দুদের জনসংখ্যা ২২ শতাংশ ছিল, তা আজকে ৮%-তে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, মন্দির ভেঙে দেওয়া, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং মহিলাদের অসম্মানিত করার ৭৬টি ঘটনা সেদেশে ঘটেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানে সমস্যা আরও গুরুতর। ধর্মান্তকরণের আইনকে সেখানে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নাবালিকা হিন্দু মেয়েদের জোর করে ধর্মান্তকরণ ঘটানো হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম ১০ মাসে এমন শতাধিক ঘটনা পাকিস্তানে ঘটেছে।
ভারতের দুই পাশে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যখন হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চরমে উঠেছে তখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলি চোখ বন্ধ করে থেকেছে। বিভিন্ন সেকুলার কণ্ঠস্বর বিশ্বের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হয়ে মুখ খুললেও হিন্দুদের নিয়ে চুপ থেকেছে।
বিজেপি: ধর্মান্ধ জঙ্গিপনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একমাত্র আলো
একমাত্র বিজেপি সরকারের আমলে তোষণ ছেড়ে উন্নয়নের পথে হেঁটেছে ভারত। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের যোগ্য জবাব দিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের তাঁদের বাড়িতে পুনরায় ফিরিয়ে আনার কথা বলা এটা প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার শুধুমাত্র কথা বলে না, কাজ করে দেখায়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যখন ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি নিয়ে মত্ত এবং ইসলামিক ধর্মান্ধতাকে দেখেও না দেখার ভান করেছে, বিজেপি তখন সন্ত্রাসবাদ এবং সাধারণ মানুষের মাঝখানে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পেহলগাঁওয়ে যে রক্তপাত হয়েছে তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে- কেন জাতীয়তাবাদী, আপোসহীন, এমন এক শক্তিশালী নেতৃত্বের কেন্দ্রে থাকার প্রয়োজন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications