মোদী সরকার ৯২ বছর বয়সী ধনকুবেরের মন্তব্যেই টলমল, টুইট-সিরিজে খোঁচা চিদম্বরমের
"অতীতে জর্জ সোরোস যা বলেছেন তার বেশিরভাগের সঙ্গেই আমি একমত ছিলাম না এবং এখন তিনি যা বলছেন তার বেশিরভাগের সঙ্গেও আমি একমত নই।"
মোদী সরকার কি এতটাই দুর্বল যে একজন ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধের একটা ছোট্ট কথাতেই পতন হয়ে যাবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম শনিবার জর্জ সোরোসের মন্তব্য প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, জর্জ সোরোসের মন্তব্যকে ভারতের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পতনের চেষ্টা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে জর্জ সোরোসের মন্তব্যে বিজেপি ক্ষুব্ধ হয়। বিজেপির তরফে প্রতিক্রিয়ার পাল্টা পি চিদম্বরম বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, জর্জ সোরোস ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি কী বললেন, তাতে কী যায় আসে। কারও বেছে দেওয়া লোকেরা এখানে সরকার চালাতে পারে না। ভারতীয় জনগণই নির্ধারণ করবে কে ভারত সরকার পরিচালনা করবে। আর কারা বাইরে থাকবে।

কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, "আমি জানতাম না যে মোদী সরকার এতটা দুর্বল। একজন ৯২ বছর বয়সী ধনী বিদেশি নাগরিক কী না কী মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে বিজেপি এমনই করছে, যেন তাঁর মন্তব্যের জন্য বিজেপি পরিচালিত সরকারের পতন হয়ে যাবে। চিদাম্বরম একের পর এক টুইট করে বিজেপিকে বিঁধেছেন।
কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম আরও অভিযোগ করেন, মোদী সরকার নীতি প্রতিযোগিতার পরিবর্তে হাস্যাস্পদ বিষযের উপস্থাপনা করছেন। অতীতে জর্জ সোরোস যা বলেছেন তার বেশিরভাগের সঙ্গেই আমি একমত ছিলাম না এবং এখন তিনি যা বলছেন তার বেশিরভাগের সঙ্গেও আমি একমত নই। তাই তাঁর মন্তব্যকে ভারতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পতনের প্রচেষ্টা' হিসাবে চিহ্নিত করা একটি অমানবিক কাজ বলে মনে করছেন চিদাম্বরম।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল জর্জ সোরোসের মন্তব্যকে উপেক্ষা করা। উচিত ছিল নুরিয়েল রুবিনির কথা শোনা। রুবিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ভারত ক্রমশই বৃহৎ প্রাইভেট গ্রুপ দ্বারা চালিত হচ্ছে। যার ফলে সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রবণতা নতুন বিনিয়োগকারীদের ভাবনাকে হত্যা করতে পারে।"
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, উদারীকরণ হল একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির সূচনা। মোদী সরকারের নীতিগুলি প্রতিযোগিতাকে বিনষ্ট করছে। জর্জ সোরোস বলেছিলেন, শিল্পপতি গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘিরে অশান্তি ভারতে গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবনের দরজা খুলে দিতে পারে। কংগ্রেস আদানি ইস্যুতে দেশে গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবন ঘটাবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির উপর নির্ভর করবে।












Click it and Unblock the Notifications