ভ্যাকসিনের ডোজে ভুল! ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে তথ্য গোপন অক্সফোর্ডের
ভ্যাকসিনের ডোজে ভুল! ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে তথ্য গোপন অক্সফোর্ডের
নতুন বছরের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে চালু হয়ে গিয়েছে করোনা টিকাকরণ। তবে তার মাঝে প্রশ্নের মুখে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা। আন্তর্জাতিক সূত্রের মতে, শেষ পর্যায়ের একটি ট্রায়ালে প্রায় ১,৫০০ জনকে ভ্যাকসিনের ভুল ডোজ দেওয়ার তথ্য সম্প্রতি সামনে এসেছে একটি চিঠি মারফত। জানা গেছে, ৮ই জুন লেখা ওই চিঠিতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভুল ডোজ দেওয়ার কথা জানান গবেষণার প্রধান অ্যান্ড্রু জে.পোলার্ড। যদিও প্রাথমিক ভাবে তা স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে গোপন করা হয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে নিরুত্তর অক্সফোর্ড!

সম্পূর্ণ ডোজের বদলে অর্ধেক ডোজ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অক্সফোর্ডের তরফে সম্পূর্ণ ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেক ডোজ দেওয়া হয় ট্রায়ালে। যদিও এর ফলে স্বেচ্ছাসেবকদের যে ক্ষতির সম্ভাবনা কতটা, তা জানায়নি অক্সফোর্ড। জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তরফে 'তথ্যের অধিকার আইন'-এর আওতায় তথ্য জানতে চাওয়া হলে এইসব তথ্য সামনে আসে। অক্সফোর্ডের সম্বন্ধে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল এথিক্স বিভাগের প্রধান আর্থার এল. কাপলান সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও অক্সফোর্ডের মুখপাত্র স্টিভ প্রিচার্ডের বক্তব্য, "অর্ধেক-ডোজের গ্রূপটি ভুলবশত তৈরি হয়েছে, যদিও ওই ঘটনার পর আমরা ওই কৌশলে এগোইনি।"

ডোজ-বিভ্রান্তির বিষয়ে নিরুত্তর অক্সফোর্ড
ডোজ-বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন অক্সফোর্ডের মুখপাত্র প্ৰিচার্ড। যদিও এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ট্রায়ালের প্রধান অ্যান্ড্রু পোলার্ড। এদিকে এহেন ভুলকে 'হিসাবের সামান্য ভুল' হিসেবে দেখিয়ে দায় সেরে ফেলতে চাইছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা। যদিও ট্রায়ালকে মান্যতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্রিটিশ প্রশাসনিক বিভাগ দায়ী, তার দিকেই আঙ্গুল তুলছে চিকিৎসকমহল।

ট্রায়ালের সফলতার হার নিয়েও বিভ্রান্তি
সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে বারেবারে ট্রায়ালের ধাঁচ বদলেছে অক্সফোর্ড। ট্রায়ালের সফলতার হার ৭০.৪% থেকে নেমে এসেছে ৬০%-এ। অন্যদিকে কোন বয়সের স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া হবে ভ্যাকসিন, সে নিয়েও অক্সফোর্ড বিভ্রান্ত করেছে জনসাধারণকে, অভিযোগ একাংশের। ব্রিটেনের ওষুধ বিভাগ এমএইচআরএ অক্সফোর্ডের ফলাফল গ্রহণ করলেও অর্ধেক বা সম্পূর্ণ ডোজের ক্ষেত্রে কোনো ছাড়পত্র দেয়নি, জানাচ্ছে প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা ?
বৃহৎ গবেষণার ক্ষেত্রে এহেন বদল ও ভুলের ঘটনা যে অতি স্বাভাবিক, তা মেনে নিয়েছেন নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োএথিক্স-এর অধ্যাপক সাইমন উডস। যদিও ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য আইন বিভাগের অধ্যাপক এমা কেভের বক্তব্য, "গবেষণায় এহেন ভুল ও হঠাৎ বদল মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হানে। কোনো কিছু না জানিয়ে যখন খুশি ডোজবদল করলেও কারণ জানায়নি অক্সফোর্ড, এটা একেবারেই অনুচিৎ।"












Click it and Unblock the Notifications