বর্ষাকালে আপনার ছাতা লাগবে? গোয়েন্দারা 'খতিয়ে' দেখে জানাবেন

মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকায় মাওবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালাতে পারে, সেটাও এই কমন সেন্সের আওতায় পড়ে। মঙ্গল গ্রহ থেকে কেউ এসে তো সিআরপি-র ওপর হামলা চালাবে না!
অথচ, আমাদের ইনটেলিজন্স ব্যুরো (আইবি) শুক্রবার তড়িঘড়ি সতর্কতা জারি করে বলল, 'সাবধান। বিধানসভা ভোট মিটে গেলে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত জেলাগুলিতে তীব্র আক্রমণ চালাতে পারে বাম গেরিলারা।' এবার নিরাপত্তাবাহিনীকে বুঝে নিতে হবে, হামলা ডানে হবে নাকি বাঁয়ে, বোমা ডিসেম্বর মাসে পড়বে নাকি জানুয়ারিতে! বিদেশি শক্তি হোক বা দেশি, আমাদের গোয়েন্দারা আজও 'সুনির্দিষ্ট তথ্য' (স্পেসিফিক ইনপুট) জোগাতে অক্ষম। ফল, ছত্তিশগড়ের বস্তার হোক বা মুম্বইয়ের রেলস্টেশন, জঙ্গিদের নিশানা হতে হচ্ছে পুলিশকর্মী, সাধারণ মানুষকে!
২৯ নভেম্বর আইবি যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার নির্যাস এই রকম: ১) ডিসেম্বরের ২-৮ তারিখ গণমুক্তি গেরিলা ফৌজ সপ্তাহ পালন করবে মাওবাদীরা। এই সময় আক্রমণ হতে পারে; ২) ছত্তিশগড়ের বস্তার-সহ উপদ্রুত জেলাগুলিতে হামলা হতে পারে; ৩) থানা, পুলিশচৌকির ওপর আক্রমণ হতে পারে। অতএব, এখানে সুরক্ষা বাড়ানো দরকার; ৪) কোনও পুলিশকর্মী যেন একা-একা জঙ্গলের রাস্তায় না বেরোন।
লক্ষণীয়, ২-৮ ডিসেম্বর আক্রমণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইবি। বছরের বাকি সময় মাওবাদীরা যেন হরিনাম গায়! অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে, অসতর্ক মুহূর্তেই মাওবাদীরা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। আবার দেখুন, আইবি-র সতর্কবাণীতে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের উপদ্রুত জেলাগুলিতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। নন্দনকাননে মাওবাদীরা মাইন পুঁতে রেখে যাবে কি? যে কোনও উপদ্রুত অঞ্চলেই রেড অ্যালার্ট থাকে। আর তা-ই তাকে উপদ্রুত অঞ্চল বলা হয়।
মাওবাদীদের কাজের ধরন বা মোডাস অপারেন্ডি দেখলে বোঝা যাবে, পুলিশ, সিআরপি-ই তাদের নিশানা। নমনীয় নিশানা বা পুলিশি ভাষায় যাকে বলে, সফট টার্গেট, তার ওপর হামলা চালায় না মাওবাদীরা। তাই থানা, পুলিশচৌকির ওপর হামলা রুখতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে, সেটাও স্বাভাবিক নয় কী! আইবি তাদের সতর্কবাণীতে এটাও বলেছে, কোনও পুলিশকর্মী যেন একা-একা মাওবাদী এলাকায় জংলা রাস্তায় ঘুরে না বেড়ান। এটা আলাদা করে না বললেও চলত। রাতের আঁধার ঘনালে বস্তারের মতো উপদ্রুত অঞ্চলে একা কেন, দলবদ্ধভাবেও বেরোয় না সিআরপি। রেইড করতে যাওয়া তো দূরের কথা! একা বেরিয়ে পড়লে সাক্ষাৎ মৃত্যুর কাছে ধরা দেওয়া, এটা বুঝতে আইবি-র সতর্কবাণীর অপেক্ষায় থাকতে হয় নাকি?
পরপর বিভিন্ন ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, আমাদের গোয়েন্দারা 'সুনির্দিষ্ট তথ্য' জোগাতে কতটা ব্যর্থ! ১৯৯৯ কার্গিলে যখন চুপিচুপি পাকিস্তানি হানাদাররা ঢুকে পড়েছিল, তখন সেই খবর ফৌজকে দিয়েছিল স্থানীয় এক মেষপালক। ২০০১ সালে সংসদে হামলার আগে কিছুই জানাতে পারেননি গোয়েন্দারা। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাঁরা নাকি জঙ্গিদের ব্যবহৃত সিমকার্ডে নিজেদের সিমকার্ড মিশিয়ে দিয়েছিলেন, সব কথোপকথন শুনেছিলেন। কিন্তু, কাসভ ও তার দলবদল সমুদ্র পেরিয়ে ঢুকে পড়বে অমুক দিন, অমুক অমুক জায়গায় হামলা চালাবে, সেই খবরটাই দিতে পারেননি গোয়েন্দারা।
অতএব, হে জনগণ, এরপরও আপনাদের মনে যদি সংশয় থাকে, বর্ষাকালে আকাশে মেঘ দেখে ছাতা নিয়ে বেরোবেন কি না, তা আমাদের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসা করবেন। ওঁরা 'খতিয়ে দেখে' আপনাকে জানাবেন!












Click it and Unblock the Notifications