চোর আসার আগে বুদ্ধি পড়ে উপচে, বাড়ির দরজা সেই খোলাই!

আমাদের দেশের গোয়েন্দাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু উলটো। চোর আসার আগে থেকেই এঁদের বুদ্ধি শুধু বাড়ে নয়, উপচে পড়ে। তবু চোরকে ধরা যায় না। কাজ হাসিল করে সে বেরিয়ে যায়।
সম্প্রতি জানা গেল, মুম্বইয়ে সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ইঙ্গিত আগেভাগে পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। খবর ছিল, ভারত থেকে কিছু সিমকার্ড জোগাড় করবে লস্কর-ই-তইবা। সেটা জানতে পেরে গোয়েন্দারা নাকি নিজেদের কিছু সিমকার্ড ওই গাদায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে, কথোপকথনের একটা বড় অংশ পরবর্তী সময়ে তাঁদের শুনতে অসুবিধা হয়নি!
প্রশ্ন হল, এত বড় একটা ঘটনা মুম্বইয়ের বুকে ঘটবে, তার পরিকল্পনা নিশ্চয় এক ঘণ্টায় হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিরা এ পারে তাদের লিঙ্কম্যানদের সঙ্গে কথা চালিয়েছে ওই সিমকার্ডগুলি ব্যবহার করে। মুম্বইয়ে নেমেও তারা ওই সিমকার্ড ব্যবহার করে করাচিতে কথা বলেছে। তা হলে, সব জানার পরও মুম্বইয়ে হামলা ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন?
লক্ষ করে দেখবেন, আমাদের দেশের গোয়েন্দারা সাধারণভাবে 'ঋতুভিত্তিক সতর্কতা' জারি করেই ক্ষান্ত হন। বছরে দু'বার এই 'ঋতুভিত্তিক সতর্কতা' জারি হয়। ২৬ জানুয়ারি এবং ১৫ আগস্টের ঠিক আগে। বুলি সেই এক। ভারতে ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। অথচ, কোন শহরে হামলা চালাবে, কবে চালাবে, কীভাবে হামলা হবে, কতজন জঙ্গি এ কাজ করবে, এ সব কিছুই তাঁরা বলেন না। ব্যাপারটা অনেকটা বটতলার জ্যোতিষীর মতো। এরা হাত দেখে পট করে বলে দেবে, আপনি খুব বড় বিপদে পড়তে চলেছেন। অথচ কবে, কোথায় বিপদে পড়বেন, সেটা জিজ্ঞাসা করলেই জ্যোতিষীবাবাজি খাবি খায়।
মুম্বইয়ের ঘটনাকেও হয়তো তাঁরা 'ঋতুভিত্তিক সতর্কতা'-র পর্যায়ে ফেলেছিলেন। ভেবেছিলেন, জঙ্গিরা সাধারণতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবসে আক্রমণ চালাবে। বা ঘটনার পাঁচ বছর পর গল্প তৈরি করে এখন কোনও অজ্ঞাত কারণে ওঁরা বাহাদুরি নেওয়ার চেষ্টা করছেন, এটাও হতে পারে।
প্লেটো বলতেন, মহান মিথ্যা ছাড়া রাষ্ট্র চালানো যায় না। আমাদের নিরাপত্তারক্ষী, গোয়েন্দারা এই তত্ত্বে মাথা ও হাত, দুই-ই পাকিয়েছেন। অথচ কর্মদক্ষতা শূন্য, ব্যর্থতার ভারে ন্যুব্জ। কৃতিত্ব বড়াইয়ের কাঙাল। ভেবে দেখুন, এখানকার এত সিমকার্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা হামলার ছক পাকা করল, আমাদের গোয়েন্দারা বুঝতে পারলেন না! সুদূর করাচি থেকে ট্রলারে চেপে সশস্ত্র জঙ্গিরা ভারতে ঢুকল, কোস্ট গার্ড আটকাতে পারল না! প্রায় একই সঙ্গে হেমন্ত কারকারে, বিজয় সালাসকর, অশোক কামটের মতো অফিসাররা 'জঙ্গিদের গুলিতে মারা' গেলেন! ঘটনাস্থলে অ্যাকশনের সময় পুলিশের আরও অনেক কর্তা ছিলেন, অথচ মরতে হল শুধু এই এনকাউন্টার স্পেশালিস্টদের!
আইবি হোক বা সিবিআই কিংবা 'র', গল্প কম-বেশি সবার ক্ষেত্রেই এক। সিবিআইয়ের ক্ষেত্রে রবি ঠাকুরের নোবেল চুরির মামলাটাই দেখুন না! অশ্বডিম্ব প্রসব হল। আবার, আমাদের দেশ এখন আইএসআইয়ের মৃগয়াক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আমরা পাকিস্তানকে ধিক্কার দিচ্ছি। কিন্তু, 'র'-এর গোয়েন্দাগিরি-বিরোধী শাখা (কাউন্টার এসপিওনেজ উইং)সারাদিন কী করে, জানতে ইচ্ছে হয়! চোরকে গালাগালি না দিয়ে এবার বাড়ির সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা বাঞ্ছনীয়।
যাই হোক, ২৬ জানুয়ারি আসন্ন। আপনারা আবার শোনার জন্য তৈরি হোন সেই 'ঋতুভিত্তিক সতর্কবাণী'। সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতে হামলা চালাতে তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা (কোথায়, কীভাবে, কখন ইত্যাদি জানা নিষ্প্রয়োজন)! বেশি তর্ক তুলে লাভ নেই। 'রাষ্ট্রদ্রোহী' তকমা লাগতে পারে!












Click it and Unblock the Notifications