২৫০ বছর নিয়ম বদল, সেনার সম্পত্তি এবার ব্যবহার করতে পারবে অন্য দফতর
২৫০ বছর নিয়ম বদল, সেনার সম্পতি এবার ব্যবহার করতে পারবে অন্য দফতর
সেনাবাহিনীর জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার৷ এবার থেকে সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ জমি ব্যবহার করতে পারবে দেশের অন্যান্য সরকারি দফতরগুলিও৷ এরপর থেকে নাগরিক স্বার্থ জড়িত এমন প্রত্যেকটি প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে সেই জমি। এই মর্মে ব্রিটিশ আমলের নিয়মে বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র৷

কী ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ম?
১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় ব্যারাকপুরে প্রথম সেনাছাউনি তৈরি করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তারপর থেকেই আইন প্রণয়ন হয় যে, সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ জমি অন্য কোনও ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যাবে না৷ এরপরে কেটে গিয়েছে দুই শতাব্দীর চেয়েও বেশি সময়। প্রায় ৭৪ বছর হতে চলল, স্বাধীনতা লাভ করেছে ভারত৷ তবু বদলায়নি সেই নিয়ম, ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রচুর জমি।
মোদী সরকারের নতুন উদ্যোগ
এবার সেই থেমে থাকা চাকা সরানোর উদ্যোগই নিতে চলেছে মোদী সরকার৷ ২০২০ সালে ঘোষিত ক্যান্টনমেন্ট বিল প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানান, বহুক্ষেত্রেই এমন হয় যে সেনাবাহিনীর জমি মানুষের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। মেট্রোরেল, রেলপথ তৈরি, ব্রিজ তৈরি সহ একাধিক কাজে লাগে সেই জমি। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই অচলাবস্থাই কাটাতে চায় সরকার। নতুন নিয়মে মোট আটটি জনস্বার্থ প্রকল্পকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলি করার জন্য সেনার জমি অধিগ্রহণ করা যাবে৷

উপযুক্ত দামে কিনতে হবে সেনার জমি
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করলে উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। জমির মূল্য ঠিক কত হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা।

কী বলছেন সেনাবাহিনী কর্তা?
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এস পানাগের কথায়, 'সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ জমিগুলি সাধারণত দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত। বহু বছর ধরেই রাজনীতিবিদ, আধিকারিকরা এই জমি চেয়ে এসেছেন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য। অবশেষে বোধহয় তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় দিল্লি থেকে পেশাওয়ার অবধি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কথা। জিটি রোডের ধারে বহু সেনাছাউনি রয়েছে যা এখন আর কোনও কাজেই লাগে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশরা ওই ছাউনিগুলিকে ব্যবহার করেছিল সেনাদের এক জায়গা থেকে অপর জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে৷ সেনাকে বিকল্প জমি কিংবা জমির মূল্য দিলে ওই জমি অধিগ্রহণে কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।












Click it and Unblock the Notifications