ভারতের গণতন্ত্রে কালো দিন! রাহুলের সাংসদ পদ খারিজে বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ
রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের ঘটনাকে ভারতের গণতন্ত্রে কালো দিন বলে গর্জে উঠলেন বিরোধীরা। সুরাতের আদালত মানহানির মামলায় রাহুলকে দু-বছরের জেল ঘোষণা করে। তার পরদিনই লোকসভার সচিবালয় থেকে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর বিরোধীরা সবাই সরব হন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটাই নরেন্দ্র মোদীর নতুন ভারত। বিরোধী মুখ খুললেই এভাবে কণ্ঠরোধ করা হয়। বিরোধীরাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ভারতের সাংবাধিনিক গণতন্ত্র নতুন নীচতায় পৌঁছে গেল মোদী সরকারের আমলে, যেখানে বিরোধী সাংসদের পদ খারিজ করে দেওয়া হল।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভয় পেয়েছেন। দিল্লির আর এক মন্ত্রী আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ প্রশ্ন তোলেন, এভাবে যদি বিরোধীদে কণ্ঠকে দমন করা হয়, তবে জনগণের সমস্যা কে তুলে ধরবে। কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য আছে ঠিকই, কিন্তু যেভাবে বিজেপির সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে চলেছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়াবহ।
এদিন উদ্ধব ঠাকরে এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের হত্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন। এটা স্বৈরাচার। এটা হল মোদী সরকারের শেষের শুরু। এই যুদ্ধের শুধুমাত্র একটা দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডির মনোজ ঝা বলেন. এটি লজ্জাজনক এবং দুর্ভাগ্যজনকর। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এর থেকে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না।
রাহুল গান্ধী সুরাতের আদালতে দোষীসাব্যস্ত হয়ে দু-হছরের জেলের সাজা পাওয়ার পর এবং এদিন তাঁর সাংসদ পদ খারিজের পর টুইট করে তিনি বলেন, "আমার ধর্ম সত্য এবং অহিংসার উপর ভিত্তি করে। সত্যই আমার ঈশ্বর, অহিংসা ঈশ্বরকে পাওয়ার উপায়।"
আর কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, "যাঁরা সত্য কথা বলেন তাঁদের রাখতে চায় না এই সরকার, তবে আমরা সত্য কথা বলতে থাকব। প্রয়োজনে আমরা গণতন্ত্র বাঁচাতে জেলে যাব।" প্রবীণ নেতা শশী থারুর বলন, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়ে দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এটি গ্লাভস বন্ধ করা রাজনীতি, যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য খুবই খারাপ।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেবন, "বিজেপি তাদের 'স্বৈরাচারে'র প্রমাণ দিয়েছে। রাহুল গান্ধীর লোকসভার সদস্যপদ স্থগিত করা স্বৈরাচারের আরেকটি উদাহরণ। বিজেপির ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, তারা শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল এবং তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল। রাহুল গান্ধী দেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন।"












Click it and Unblock the Notifications