Opposition Meet: বিরোধী ঐক্যের নাম ‘ইন্ডিয়া’! বিরোধিতা করেছিলেন ‘আহ্বায়ক’ নীতীশ কুমার
বিরোধী ফ্রন্টের নাম ইন্ডিয়া রাখার প্রবল বিরোধী ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি এই নাম রাখার বিরোধিতায় করে সমালোচনাও করেন উদ্ধব ঠাকরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকী রাহুল গান্ধীরও। কিন্তু সব বিরোধী নেতাদের পরামর্শ নিয়েই তো এই নাম, তাহলে আপত্তি কীসের? তা নিয়েই উঠে পড়ল প্রশ্ন।
কর্নাটকরে রাজধানী বেঙ্গালুরুতে দুদিনের বিরোধী ঐক্যের বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ইন্ডিয়া নামটি নিয়ে। শুধু একজন ব্যক্তি ইন্ডিয়া নাম নিয়ে একটু আপত্তি তুলেছিলেন। তবে সেই আপত্তি খারিজ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেন, ২০২৪ সালে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে 'ইন্ডিয়া'।

'ইন্ডিয়া' হল বিরোধী জোটের সংক্ষিপ্ত রূপ। পুরো কথা হল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স। কিন্তু এই নামে আপত্তি ছিল নীতীশ কুমারের। আলোচনা চলাকালীন নীতীশ কুমার প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে একটি বিরোধী জোটের নাম ভারত হতে পারে।
বাম নেতারাও দ্বিধায় ছিলেন এই নাম নিয়ে। বিভিন্ন বিকল্প নামের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। যেহেতু বেশিরভাগ দলই 'ইন্ডিয়া' নামটিকে অনুমোদন করে, সেইহেতু নীতিশ কুমার সম্মত হয়েছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ঠিক আছে, যদি আপনারা সবাই এটার সাথে সহমত হন, আমারও আপত্তি নেই।"
বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচির প্রধান থোল থিরুমাবলাভান বলেন, বিরোধী জোটের এই নামটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি প্রস্তাব করেছেন। এরপর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে 'ইন্ডিয়া'র পুরো নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স হয়। বাংলায় তা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ভারতের জাতীয় উন্নয়নমূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক জোট।
অন্যদিকে এনসিপি নেতা জিতেন্দ্র আওহাদ পোস্ট করেন, এটি রাহুল গান্ধীর ধারণা। বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী এই জোটের নাম ইন্ডিয়া রাখার একটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তাঁর সৃজনশীলতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। সমস্ত দল এটিকে অনুমোদন করেছে এবং ইন্ডিয়া নামে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।"

কংগ্রেস নেতা সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, কেন বিরোধী দলগুলির ঐক্যের নাম ইন্ডিয়া হওয়া উচিত, শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা করেন রাহুল গান্ধী। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রাহুল গান্ধী নামটি প্রস্তাব করেছিলেন। আবার কোথাও বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রস্তাব করেন।
বলা হয়, বিজেপিকে এবার 'ইন্ডিয়া'-এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ইন্ডিয়া মানে ভারতের বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি আছে বিজেপির? এই মর্মে বিরোধী ফ্রন্ট তার ট্যাগলাইনও ঘোষণা করেছে। বিরোধী জোটের ট্যাগ লাইন হল জিতেগা ভারত। অর্থাৎ ভারত জিতবে। উদ্ধব ঠাকরে পরামর্শ দিয়েছেন, এই জোটের একটি হিন্দি ট্যাগলাইন থাকা উচিত।
পরবর্তী বিরোধী সভা মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা গোষ্ঠীর দ্বারা আয়োজন করা হবে সেই সভা। জোটের মুখ কে হতে পারে তা নিয়েও আলোচনা করেছেন ২৬টি বিরোধী দলের নেতারা। এ জন্য ১১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। কংগ্রেস আরও বলেছে প্রচার পরিচালনার জন্য দিল্লিতে একটি 'সচিবালয়' স্থাপন করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications