কংগ্রেসের জি-২৩ নেতাদের উদ্যোগে বৈঠকেও জোটে যোগ-বিয়োগ, ২০২৪-এর লড়াইয়ে বিজেপি বিরোধী স্ট্র্যাটেজিতে শান
দিন কয়েক আগে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। এবার বৈঠকে সামিল কংগ্রেসের (congress) জি-২৩ গ্রুপের নেতারা। সোমবার রাতে কংগ্রেস সাংসদ কপিল সিবালের (kapil sibal) বাসভবনে বৈঠকে হাজির ছিলেন অনেকগুলি বিরে
দিন কয়েক আগে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। এবার বৈঠকে সামিল কংগ্রেসের (congress) জি-২৩ গ্রুপের নেতারা। সোমবার রাতে কংগ্রেস সাংসদ কপিল সিবালের (kapil sibal) বাসভবনে বৈঠকে হাজির ছিলেন অনেকগুলি বিরোধীদলের শীর্ষ নেতা। ওই বৈঠকে ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনে বিজেপিকে (bjp) হারানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে হাজির ছিল না আপ এবং বিএসপি।

বৈঠক কপিল সিবালের বাসভবনে
সোমবার রাতের বৈঠকটি হয় কপিল সিবালের বাসভবনে। ডিনার হয় কপিল সিবালের ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে। ওই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে কংগ্রেসে পরিবর্তন চাওয়া ২৩ জন নেতার মধ্যে ২০ জন হাজির ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ছিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও। বৈঠকে ২০২৪-এর সাধার নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানিয়েছেন, ২০২৪-এর নির্বাচনে বিরোধীরা কীভাবে একসঙ্গে লড়াই করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২২-এর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে হাজির ছিলেন যাঁরা
এই বৈঠকে যাঁরা হাজির ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার এবং প্রফুল প্যাটেল, বিজু জনতাদলের পিনাকি মিশ্র, তৃণমূলের ডেরেক ওব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত, সিপিএম-এর সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই-এর ডি রাজা, শিরোমনি অকালি দলের নরেশ গুজরাল, ডিএমকের তিরুচি শিবা, আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব।

একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে সওয়াল
বৈঠকে শরদ পাওয়ার ২০২৪-এর নির্বাচনে একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে জোর দেন বলে সূত্রের খবর। তিনি একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী এক প্রার্থীকে দাঁড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। এব্যাপারে তিনি মহারাষ্ট্রের জোট সরকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কে ভেবেছিল এনসিপি, কংগ্রেস এবং সেনা একসঙ্গে কাজ করতে পারে। পাওয়ারের এই কথার সঙ্গে শিবসেনার সঞ্জয় রাউত একমত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, জোট সরকারের পরীক্ষার ফল দেখিয়ে দিয়েছে মহারাষ্ট্র।

ডেরেক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ
বৈঠকে তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও'ব্রায়েন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের উদাহরণ দেন বলে জানা গিয়েছে। যেখানে তৃণমূল একাই বিজেপিকে হাইভোল্টেজ নির্বাচনে পরাজিত করেছে। তিনি বলেছেন, বিজেপিকে পরাজিত করার ১০০ তম দিনে বৈঠকে তিনি যোগ দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ৮ তিনমূর্তি লেনেই একটা সময়ে থাকতেন সিপিএম নেতা হরকিষেণ সিং সুরজিত। সেই সুরজিতও গত শতাব্দীর ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার তৈরির অন্যতম রূপকার ছিলেন। যেই সরকারে কংগ্রেস ও বামেদের হাজির করেছিলেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। বামেরা বাইরে থেকে সেই সরকারকে সমর্থন করে।
তবে সোমবার রাতের বৈঠকে উল্লেখজনক উপস্থিতি ছিল বিজেডির পিনাকি মিশ্র। তিনি বলেছেন, ওড়িশায় তারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেসের জি-২৩ গ্রুপের অন্যতম নেতা মনীশ তিওয়ারি বলেছেন, বিরোধীদের একসঙ্গে আসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। যেন দেখানো যায় ভারত বেঁচে আছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকের আয়োজক কপিল সিবাল বলেছেন, গনতন্ত্রে যে বল ঘুরছে তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা যায়, তাহলে সমগ্র বিরোধীপক্ষকে শক্তিশালী করা যাবে, বলেছেন ওমর আবদুল্লা।
দিন কয়েক আগে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকে যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকের থাকা অধিকাংশ নেতাই সোমবার রাতের বৈঠকে হাজির ছিলেন। ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল মূলত পেগাসাস ইস্যুতে, সংসদে সরকার বিরোধী কর্মপন্থা আলোচনার জন্য। পেগাসাস ছাড়াও সংসদে কৃষিবিল নিয়ে আলোচনার দাবি উঠেছিল ওই বৈঠকে।
রাহুলের বৈঠকের মতোই কপিল সিবালের বাড়িতে হওয়া সোমবার রাতের বৈঠকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ কিংবা উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর দল বিএসপির কোনও প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না বলেই জানা গিয়েছে। তবে বাড়তি সংযোজন ওড়িশার বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications