এক বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৭৮ শতাংশ!

কুইজ প্রতিযোগিতায় এখন অনায়াসে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে প্রশ্নটি। উত্তর হল, ২৭৮ শতাংশ!!
পেঁয়াজের ঝাঁঝ যে কতটা কাঁদাচ্ছে, তার প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। খোদ সরকারি রিপোর্টই এ কথা বলছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক যে তথ্য দিয়েছে, তাতেই এর উল্লেখ রয়েছে। এমনকী, টমেটোর দামও গত এক বছরে ১২২ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খুচরো বাজারে পেঁয়াজ ৬০-৮০ টাকা কিলো দরে বিকোচ্ছে। বাংলার বাজারে নাসিকের পেঁয়াজ ঢুকলেও অবস্থা পাল্টায়নি। পরিস্থিতি এমনই, রেস্টুরেন্ট, ধাবায় খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ চাইলে দোকানির চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে! কোনও দোকানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার ওপর কেনাকাকাটা করলে কিছু পেঁয়াজ মিলছে। অথচ এবার পেঁয়াজের উৎপাদন যে খুব কম হয়েছে, এমন নয়। ফাটকাবাজির কারণেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া অবশ্য বলেছেন, "চিন্তার কিছু নেই। বাজারে নতুন ফসল এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।"
শুধু কী পেঁয়াজ! গত বছর অক্টোবরে যা দাম ছিল, তার তুলনায় টমেটোর দাম বাড়ার হার হল ১২২ শতাংশ। খুচরো বাজারে টমেটোর দাম এখন ৬০ টাকা কিলো। অথচ পেঁয়াজ, টমেটো এগুলি যে কোনও রান্নার আবশ্যিক উপাদান। মানুষ এতে কতটা ক্ষুব্ধ, মালদার বাজারে লুঠপাটের ঘটনাই তার প্রমাণ। নিরীহ সবজি পটলও ৫০-৬০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ বিকোচ্ছে ৫০ টাকা কিলো দরে। ডিমের দাম প্রতি পিস সাড়ে চার টাকা। কলকাতায় তো এক-এক প্রান্তে সবজির দাম এক-এক রকম। সরকারের বেঁধে দেওয়া ১৩ টাকা দরে কেউ আলু বিক্রি করতে চাইছে না। চন্দ্রমুখী আলু কোথাও ২০ টাকা, কোথাও আবার ২২ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুমকি সত্ত্বেও বদলায়নি কিছুই। অক্টোবরে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭.৩২ শতাংশে দাঁড়ানোর মূল কারণ, খাদ্যপণ্যের দামের এমন রকেট গতিতে বৃদ্ধি। স্বাভাবিকভাবেই পাইকারি মূল্যসূচক ঊর্ধ্বুমখী হয়েছে।
সরকারি কর্তারা ঠান্ডা ঘরে বসে বুলি দিয়ে কাজ সারছেন, আর জেরবার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খেটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষের আয়ে থাবা বসাচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি।












Click it and Unblock the Notifications