ONOE: এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক, বিরোধীদের প্রশ্নবাণের জবাব বিজেপির
One Nation One Election: এক দেশ এক নির্বাচন সংক্রান্ত বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকেই বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিল বিরোধীরা। জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপিও।
এই বিল আনার পিছনে ভাবনা, কী কী ধরনের সুবিধা হবে, এর প্রয়োজনীয়তা কী তা প্রথমে বৈঠকে জানায় কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক। এরপর ৩৯ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটি এই বিল নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে।

যৌথ সংসদীয় কমিটিতে আছেন ২৭ জন লোকসভার সাংসদ ও ১২ জন রাজ্যসভার সাংসদ। বৈঠকে কংগ্রেস, ডিএমকে ও তৃণমূল কংগ্রেস একযোগে দাবি করে, যে বিল আনা হচ্ছে তা সংবিধানের পরিপন্থী, দেশের ফেডারেল কাঠামোর ভিত্তিতে আঘাত।
কেন্দ্রের তরফে বলা হচ্ছে, এক দেশ এক নির্বাচন কার্যকর হলে ভোটের খরচ কমে যাবে। যদিও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি বলেন, খরচা বাঁচানোর থেকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাটাই বেশি জরুরি।
গত ১৮ ডিসেম্বর সংবিধানের ১২৯তম সংশোধনী বিল ও ইউনিয়ন টেরিটরিজ ল'জ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল কেন্দ্র পেশ করেছিল লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে। তারপরই তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয় পর্যালোচনার জন্য।
এক দেশ এক নির্বাচন আইনে পরিণত হলে নির্বাচন যখন হবে তাতে খরচ কমবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তার সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ৫৪৩টি লোকসভা কেন্দ্রে প্রথমবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন দিয়ে ভোট হয়েছিল ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে। তখনকার খরচ সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চান কিছু সাংসদ।
বিজেপি সাংসদরা পাল্টা দাবি করেন, এই বিল আনা হচ্ছে সাংবিধানিক মূল্যবোধ সুনিশ্চিত করতেই। যাতে কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সরকার আগে না পড়ে যায়। লোকসভা ও বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হলে সেই আশঙ্কা থাকবে না।
বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল জানান, ১৯৫৭ সালে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট করাতে সাতটি রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি সাংসদের প্রশ্ন, তাহলে তখনও কি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, জওহরলাল নেহরুরা সংবিধান-বিরোধী কাজ করেছিলেন?
বিজেপি সাংসদ ভিডি শর্মা বলেন, দেশবাসীই চাইছেন একসঙ্গে ভোট হোক। রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেই কমিটি ২৫ হাজার দেশবাসীর সঙ্গে কথা বলেছে। বেশিরভাগ মানুষই এক দেশ এক নির্বাচনকে সমর্থন করেছেন।
বিজেপি সাংসদদের কথায়, প্রতি বছর কোনও না কোনও ভোট হলে উন্নয়নের কাজও থমকে যায় কয়েক মাসের জন্য। এক দেশ এক নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সেই সমস্যাও ঘুচবে। ওয়াইএসআর কংগ্রেসের প্রতিনিধি আবার ইভিএমের জায়গায় ব্যালট পেপার ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন।
ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ভি বিজয়সাই রেড্ডির আশঙ্কা, এক দেশ এক নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হলে আঞ্চলিক দলগুলি বিপন্ন হবে। লড়াই হয়ে দাঁড়াবে ২-৩টি জাতীয় দলের মধ্যেই। জেডি (ইউ) সাংসদ সঞ্জয় ঝা বিহারে বুথ দখলের উদাহরণ টেনে ব্যালট পেপারে ভোটের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তবে কোনও সরকার অল্প মেয়াদের জন্য এলে গভর্ন্যান্সে কোনও সমস্যা হবে কিনা সেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে বিজেপির এই সহযোগী দল।












Click it and Unblock the Notifications