প্রতি ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু! উল্টো পথে যান চালানো এখন ভারতীয় রাস্তায় ‘আত্মঘাতী' অপরাধ
ভারতের রাস্তায় উল্টোদিকে গাড়ি চালানো যেন এক নীরব মহামারী। সরকারি তথ্য বলছে, গত ছয় বছরে এ ধরনের 'বিপরীতমুখী' যান চালনার জেরে প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ এই সময়ে ৫১,৯৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, গড়ে দৈনিক ২৪ জন।
পরিবহন মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্ট জানায়, ২০২৩ সালে মাত্র উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে ৯,৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথমবার ২০১৪ সালে এই তথ্য নথিভুক্ত হয় তখন মৃত্যু ছিল ৩,১০৩। মাত্র তিন বছরে সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে ২০১৭ সালে পৌঁছয় ৯,৫২৭ তে।

২০২০ এর মহামারির পরে আবার বাড়তে থাকে মৃত্যু। ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ উল্টো পথে গাড়ি চালানোর জেরে প্রাণ হারিয়েছেন।
মানবিক ভুল নয়, 'শিক্ষা ও নজরদারির অভাব'
মন্ত্রকের দাবি এটি শুধুই মানবিক ভুল নয়, শিক্ষার ঘাটতি, শৃঙ্খলার অভাব ও সড়ক নকশার ত্রুটি মিলেই এই চিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্টো পথে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় অত্যন্ত কম, তাই দুর্ঘটনা মারাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তথ্য বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত রিপোর্ট হওয়া ভুল দিক দুর্ঘটনার ৪০ শতাংশই প্রাণঘাতী। সর্বোচ্চ বিপদ জাতীয় সড়কে সেখানে প্রতি দ্বিতীয় দুর্ঘটনাই মারাত্মক।
রাজ্যভিত্তিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক, উত্তরপ্রদেশের অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ। ২০১৪ সালে মৃত্যু ছিল ৩৯০, ২০২৩ এ তা বেড়ে ২,৯২০। অর্থাৎ দিনে প্রায় ৮ জনের মৃত্যু।
বিহার দ্বিতীয় স্থানে ২০২৩ সালে ১,১১৯ মৃত্যু। মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।
২০১৪ তে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সম্মিলিত মৃত্যু ছিল দেশের মোটের ১৬ শতাংশ। ২০২৩ এ তা বেড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকরি বলেন,
"লেন শৃঙ্খলা না মানার প্রবণতা বাড়ছে। চালকদের সচেতন করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।"
আন্তর্জাতিক রোড ফেডারেশনের ভারত সভাপতি অখিলেশ শ্রীবাস্তব বলেন,
"এটা আত্মঘাতী লঙ্ঘন। প্রতিক্রিয়ার সময় এত কম যে মৃত্যু ঝুঁকি তিন চার গুণ বেশি।"
সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রধান পিযুষ তিওয়ারির ভাষায়
"সভ্য সমাজে উল্টো পথে গাড়ি চালানো জঘন্য অপরাধ। প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক না করলে পরিস্থিতি বদলাবে না।"
বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি কঠোর নজরদারি, উন্নত রাস্তা নকশা ও বাধ্যতামূলক ড্রাইভার প্রশিক্ষণ চালু না হলে এই মৃত্যু যাত্রা থামবে না। আর ততদিনে ভারতীয় রাস্তাঘাটে প্রতি ঘণ্টায় জীবন নিভে যাওয়ার এই নির্মম হিসেব চলতেই থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications