২০২৪-এ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী! কংগ্রেসে চাপ বাড়ছে 'মমতাপন্থী' নেতাদের
রাজ্য সরকারের হয়ে মামলার সওয়াল করতে কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলেন পি চিদাম্বরম। সেই সময় তাঁকে গোব্যাক স্লোগান দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। এবার সেই চিদাম্বরম আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের পারস্পরিক সমর্থন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পি চিদাম্বরম সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি ২০২৪-এর লড়াই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে আলোচনার মাধ্যমে বোঝাপড়ায় পৌঁছনো যাবে। তবে চিদাম্বরম কি আঞ্চলিক দল যে রাজ্যে শক্তিশালী সেই রাজ্যে কংগ্রেস প্রার্থী দিতে পারবে না, মমতার এই শর্তকে সমর্থন করছেন কিনা তা অবশ্য পরিষ্কার নয়।

উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেছেন, কংগ্রেস যেসব রাজ্যে শক্তিশালী, সেখানে শুধু তারাই লড়াই করবে। অন্যদলগুলি তাদের সমর্থন করবে। সেখানে প্রশ্ন, বেশিরভাগ বড় রাজ্যেই আঞ্চলিক দল শক্তিশালী, তবে কংগ্রেসকে কি সেইসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না? তাহলে তো কংগ্রেস লড়াইয়ে জন্য ২০০ আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদব, আঞ্চলিক দলের নেতারা মনে করেন, যেসব আসনে কংগ্রেস জিতবে এমন আসনগুলিতেই কংগ্রেসের লড়াই করা উচিত। সেক্ষেত্রে যে ২০০ আসনের কথা বলা হচ্ছে, সেই আসনগুলিতে গত ২০১৪ ও ২০১৯-এ বিজেপিই অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়েছে।
সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে লোকসভার প্রায় ২০০ আসন রয়েছে। এই চার রাজ্যেই কংগ্রেসের সংগঠনের হাল অনেকটাই খারাপ এবং আঞ্চলিক দল শক্তিশালী। তবে এই রাজ্যগুলিতে শুধুই আঞ্চলিক দল লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেই দাবি কি রাজ্য ইউনিটগুলি মেনে নেবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।
এব্যাপারে উদাহরণ হল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল চাইবে মুর্শিদাবাদের সবকটি লোকসভার আসনে প্রার্থী দিতে। যা অধীর চৌধুরী কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারবেন না। রয়েছে মালদহের দুটি আসনও। প্রবীন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম বলেছেন অন্তত ৪৫০ টি আসনে একের বিরুদ্ধে এক বিরোধী প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে সব বিরোধী দল।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন আপ দিল্লি ও পঞ্জাবের সবকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। যার পাল্টা হিসেবে দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন সরাসরিই এর বিরোধিতা করেছেন। দিল্লি কংগ্রেস কেন্দ্রের অর্ডিন্যান্স নিয়ে কোনও বিরোধিতা করেনি। উপরন্তু তারা কেন তা বিরোধিতা করছে না, সেই কারণও তুলে ধরেছে।
চিদাম্বরম বলেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি হল একটি রাজ্যের সব থেকে শক্তিশালী অবিজেপি দল সেই রাজ্যের নির্বাচনে জোটের নেতৃত্বাধীন হতে হবে। আর যে রাজ্যে কংগ্রেস সব থেকে শক্তিশালী সেখানে তারাই বিজেপি বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দলগুলি একে অপরকে সমর্থন করবে সেটাই আশা করা উচিত।

১২ জুন পটনায় বিরোধী জোটের বৈঠক নিয়ে আশাপ্রকাশ করে চিদাম্বরম বলেছেন,. আগামী কয়েকমাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া আরও গতি অর্জন করবে। পাশাপাশি কর্নাটকে কংগ্রেসের জয় ২০২৪-এর সাধাৎণ নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেছেন, সাধারণ নির্বাচনের আগে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকেও খেয়াল রাখতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications