বিজয় দিবসে ১৯৭১ এর বীরদের স্মরণ, গর্বে মাথা উঁচু করল ভারত
বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ এর যুদ্ধের বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার এক বার্তায় তিনি স্মরণ করেন সেইসব সাহসী যোদ্ধাদের, যাঁদের আত্মত্যাগ ও অটল সংকল্প ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিঃস্বার্থ সেবা ও অদম্য মনোবলই ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক বিজয়কে নিশ্চিত করেছিল, যা আজও প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মোদী লেখেন, ১৯৭১ এর যুদ্ধে সেনাদের বীরত্ব ও আত্মবলিদান দেশকে এক অনন্য সাফল্য এনে দিয়েছে। তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয় ও দেশপ্রেম জাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে ও ইতিহাসে গর্বের এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। এই দিনটি তাঁদের বীরত্বের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহস ও আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সুরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও বিজয় দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের সেই নির্ণায়ক বিজয়ে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয় ভারতের কৌশলগত শক্তি ও দৃঢ়তার স্পষ্ট প্রমাণ। এই ঐতিহাসিক সাফল্য জাতির আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর।
এই যুদ্ধে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজি ঢাকায় আত্মসমর্পণ করেন ও প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা বন্দি হয়। এর ফলেই পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিতেই ১৬ ডিসেম্বর পালন করা হয় বিজয় দিবস।
এই যুদ্ধে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ। তবে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানের অবদানেই সম্ভব হয়েছিল এই গৌরবময় বিজয়, যা আজও ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে রয়ে গেছে।












Click it and Unblock the Notifications